দেশে প্রথম নিঃস্ব খামারিদের পাশে দাড়ালো ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

জিনান মাহমুদ :

বাংলাদেশে প্রথম গবাদি প্রাণীর উন্নয়নে বীমা সেবা নিয়ে এলো ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। প্রাণী সম্পদের ডিজিটাল সেবা এবং খামারিদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাণী বীমা চালু করেছে দেশের অন্যতম এই বীমা প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে গরু ও মহিষ বীমার আওতায় থাকবে। বীমাকৃত প্রাণী চুরি হলে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

প্রাণী বীমা সেবা নিয়ে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি অর্থবাংলাডটকমকে বলেন, গবাদিপ্রাণী লালন-পালনের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন লাখ লাখ কৃষক ও খামারিরা। তাদের খামারে দুর্ঘটনা, জখম, অসুস্থতা কিংবা রোগের কারণে গবাদিপ্রাণী মারা গেলে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। খামারিদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে দেশে কোন প্রাণী বীমা ছিল না। এ কারণে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের আর্থিক ক্ষতির আংশঙ্কায় গবাদি প্রাণীর খামারিদের বড় কোন ঋণ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। তাই খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধান ও ঋণ প্রদানের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রথমবারের মতো দেশে এই বীমা চালু করা হয়েছে। সরকারের মিশন এবং ভিশন বাস্তবায়নের জন্য প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ‘প্রাণী বীমা’ ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাধ্যমেই সূচিত হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সেবার ফলে খামারিদের আর্থিক সচ্ছলতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসাথে গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন তিনি।

 

কেন এই বীমা প্রকল্প, এমন প্রশ্নের উত্তরে ফিনিক্স ইন্সুরেন্স কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের গ্রামাঞ্চলের ৯০ শতাংশ পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস গবাদি পশু। অসংখ্য কৃষক ও বৃহৎ জনগোষ্ঠী গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়া গবাদি পশু লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গবাদি পশু লালন-পালন করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন, আবার অনেকেই পশুর মৃত্যুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির এ খাতটি বিকশিত হচ্ছে না। গত দশক থেকে গ্রামীণ পর্যায়ে গবাদি পশুর খামার তৈরি হতে দেখা যায়। বর্তমানে সারা দেশে আড়াই লাখের মতো খামার রয়েছে। ব্যাংক লোনসহ পরিবারিক পুঁজি নিয়ে গবাদি পশুর খামার করেছেন অনেকে। কেউ কেউ খামার করে লাভবান হচ্ছেন, অনেকেই আবার সর্বস্ব খুইয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন। কারণ, রোগব্যাধিসহ বিভিন্ন কারণে প্রতি বছর প্রচুর গবাদি পশু মারা যায়। বিশেষ করে গরু লালন পালনের ক্ষেত্রে তড়কা, ক্ষুরা, গলাফোলা, বাদলা, ব্রুসেলোসিস ও থেইলেরিওসিস রোগ দেখা দেয়। বীমা ঝুকি গ্রহন করলে গবাদি পশুর চিকিৎসা পাওয়া যাবে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকবে। এছাড়াও গবাদি পশু লালন-পালনে খামারে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এবং জখম, অসুস্থতা কিংবা বিভিন্ন রোগের কারণে গবাদিপ্রাণী মারা গেলে বীমা পলিসির মাধ্যমে গবাদি পশুর মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণ পাবেন। যার মধ্যদিয়ে খামারির বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে। গবাদি পশুর খামারে বিনিয়োগে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়বে, খাতটি বড় হবে। তৃনমূল জনগোষ্ঠী লাভবান হবে।

ফিনিক্স ইনসুরেন্সের উপ মহাব্যবস্থাপক নাহিদ সুলতানা বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিকভাবে গরু ও মহিষ প্রাণী বীমার আওতায় আসবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি খামারের দুই শতাধিক গরুকে এই ইনসুরেন্সের আওতায় আনা হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে গবাদিপশুর চিকিৎসা ও লালন-পালনে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

কোন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে এই বীমা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে,  গবাদি পশুর বাজারমূল্য নির্ধারণ করে চুরি ও মুত্যু বীমার জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রিমিয়াম দিতে হবে। যেমন, এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরুর বার্ষিক প্রিমিয়াম হবে পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিটি বীমাকৃত প্রাণীর সর্বোচ্চ বীমা অঙ্ক হবে আড়াই লাখ টাকা। গবাদি প্রাণীর মোট মূল্যের ওপর বীমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হবে। স্থায়ীভাবে পূর্ণাঙ্গ পঙ্গুর ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম দিতে হবে ১ শতাংশ।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী কর্তৃপক্ষ আরো জানান, প্রতিটি বীমাকৃত প্রাণীর সর্বোচ্চ বীমা অংক হবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে স্কিম এনিমেল বা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক প্রণোদনা প্রাপ্ত প্রাণীর মৃত্যু ঝুঁকিতে বছরে প্রিমিয়াম দিতে হবে ২.৭৫ শতাংশ। তবে স্কিম এনিমেলের ক্ষেত্রে চুরি বা হারানোর ঝুঁকি গ্রহণ করা হয় না।

অন্যদিকে নন-স্কিম এনিমেল বা সরকারি প্রকল্পের বাইরে গরু-মহিষের মৃত্যু ঝুঁকিতে বার্ষিক প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৫০ শতাংশ। চুরি বা হারানোর ঝুঁকিতে প্রিমিয়াম ২.২৫ শতাংশ এবং স্থায়ীভাবে পূর্ণাঙ্গ পঙ্গুতে ১.৫০ শতাংশ। আর বিদেশি গরুর ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকিতে ৪.৫ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ শতাংশ প্রিমিয়াম দিতে হবে।

গ্রাহকের বীমা দাবী পরিশোধের বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষর বক্তব্য হচ্ছে, জরিপ প্রতিবেদন এবং আনুসঙ্গিক কাগজপত্র কোম্পানি কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধ করা হবে। মৃত্যু এবং হারানো বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বীমাকৃত প্রাণীর সর্বোচ্চ মূল্য বা বর্তমান বাজার মূল্য পর্যন্ত পরিশোধ করা হবে। তবে প্রতিটি বীমা দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দাবিকৃত অংকের ওপর ১০ শতাংশ ডিডাকটেবল বা কর্তন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও ক্লেইম বিভাগের প্রধান মো. মিজানুর রহমান অর্থবাংলাডটকমকে জানিয়েছেন, আর দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩১টি শাখা কার্যালয়ের মাধ্যমে খামারিদের প্রাণী বীমা সেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে এই বীমা গ্রহণ করা যাবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা: হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, সরকারও অনুরূপ একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। উদ্যোগটি খুবই ভালো। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি গবাদি প্রাণীর অবস্থান শনাক্ত করা যাবে। একটি বায়োসেন্সর গবাদি পশুর পাকস্থলিতে প্রবেশ করানো হয়, যাতে একটি আইডি নম্বর থাকবে। গরুটি জবাই ছাড়া এটি বের করা যাবে। তিনি বলেন, প্রাণী বীমা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চিন্তাভাবনা চলছে, তবে গরুর পরিচয় নিশ্চিত করা না যাওয়া সেটি সম্ভব হচ্ছিল না। এখন অ্যাপসটির মাধ্যমে একটি আইডি নম্বর থাকবে এবং ওই নম্বরে প্রাণী বীমা করা যাবে।

 

 

 

অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ বলেন, দেশের তৃণমুল পর্যায়ে এ ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। প্রাণিবীমার মাধ্যমে গবাদি প্রাণী পালনের আর্থিক ঝুঁকি কমে যাওয়ায় খামারিরা এই আধুনিক সুবিধার প্রতি বেশী আকৃষ্ট হবেন এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরও ত্বরান্বিত হবে।

এ প্রসঙ্গে  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান জানান, ‘‘বর্তমানে গবাদি সম্পদ খাতে দেশে গরু আছে প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ আর ছাগল আছে ২ কোটি ৫২ লাখ। ভেড়া আছে ৩৫ লাখ। গবাদি পশুর প্রাথমিক চিকিৎসাসহ বীমা সুবিধা চালু করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক মোবাইর অ্যাপসের মাধ্যমে নতুন সেবায় গবাদি পশুর জাত উন্নয়ন হবে। বাড়বে দুধ ও মাংসের উৎপাদন। একইসাথে বীমা সুবিধা থাকায় গরুর মৃত্যুতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমবে।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের আন্ডাররাইটিং বিভাগের ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান রিপন অর্থবাংলাডটকমকে বলেন, সম্ভাবনাময় এ খাতকে বিকশিত এবং খামারিদের বিনিয়োগের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিতেই প্রাণী বীমা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গৃহপালিত প্রানীর ক্ষতি এড়াতে প্রাণী বীমায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাণীর জাত নির্ণয়, জাত উন্নয়ন, সফল প্রজনন, তথ্য সংরক্ষণ, প্রজনন অবস্থা, গবাদি প্রাণী লালন-পালন ব্যবস্থাপনা, গবাদি প্রাণীর সার্বক্ষণিক অবস্থা শনাক্ত, রোগব্যাধির আগাম তথ্য জানা, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, সবসময় গবাদি প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ, সময়মতো গাভির হিট নির্ণয় সম্ভব। একইসাথে সঠিক সময়ে বীজ ভরণ সংক্রান্ত তথ্য, গাভির গর্ভাবস্থা নির্ণয়, গাভির প্রসবের সম্ভাব্য সময়ের আগাম তথ্য লাভ, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অসুস্থ গবাদি প্রাণীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, গবাদি প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসএমএস সার্ভিস প্রদান, গবাদি প্রাণীর সময়মতো টিকা প্রদান সম্পর্কে তথ্য প্রদান সম্ভব।

 

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের প্রাণী বীমা প্রকল্পের পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি রফিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সর্বপ্রথম রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্ত করে গবাদি প্রাণীর সঠিক স্বাস্থ্য ও অবস্থান রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করছে।  এজন্য প্রাণী বীমার পুনঃবীমাকারী হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত পুনঃবীমা কোম্পানি সুইস রি এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেরও অনুমোদনপ্রাপ্ত। প্রযুক্তিগত পুরো কাজটায় সহযোগিতা করছে সূর্যমুখী লিমিটেড। সূর্যমুখী প্রাণিসেবা পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপ থেকেই। অ্যাপসটি তৈরি ও ব্যবস্থাপনার সহায়তায় রয়েছেন ইউকেএইড, বিইপি-বি, আরএফআইডি। ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাণী বীমার এই সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট এবং মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে প্রাণী দিতে প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে ইতোমধ্যে সূর্যমুখী প্রাণিসেবা নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।  এই প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ), ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি এবং জার্মান এগ্রিকালচার সোসাইটি (ডিএলজি) অনুমোদিত। প্রকল্পটি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনেরও (বিটিআরসি) অনুমোদনপ্রাপ্ত। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেবার উপায় হচ্ছে, একটি বায়োসেন্সর গবাদি প্রাণীর পাকস্থলীতে প্রবেশ করানো হয়। এই বায়োসেন্সর বা বোলাস প্রাণীর পাকস্থলী থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় তথ্য তৈরি এবং তা প্রদান করে। এই বোলাস গবাদি প্রাণীর পাকস্থলীতে অন্তত ৫ বছর কার্যকর থাকে এবং গবাদি প্রাণীর দেহে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্র্যাকিং সিস্টেম হচ্ছে একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বা সবযন্ত্রে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাণীর জন্য বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হয়।

 

 

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের প্রাণী বীমা প্রকল্পের পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি রফিকুর রহমান আরো বলেন, ‘ডিজিটাল খামার গড়ি, গবাদি প্রাণীর বীমা করি’ এই স্লোগানে গরু ও মহিষের স্বাস্থ্য এবং খামারির আর্থিক ক্ষতি মেটানোর লক্ষ্যে গবাদিপশুর জন্য বীমা সুবিধা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গরু ও মহিষ এই বীমার আওতায় থাকবে। গবাদি প্রাণী লালন-পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খামারিদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রদানের প্রতিবন্ধকতা নিরসন এর অন্যতম লক্ষ্য।  কারণ, একসময় শুধু পারিবারিকভাবে গবাদি পশু পালন হতো, এখন এটি ব্যবসায়িক পর্যায়ে এসেছে। তবে এ খাতে ব্যাংক লোন তেমন পাওয়া যায় না। জমি বা অন্য কিছু বন্ধক রেখে লোন আনছে, ওয়াকিং ক্যাপিটাল লোন পাচ্ছে না। এখন খামারের গরুটি যখন বীমার আওতায় আনা হবে, তখন ব্যাংক নিশ্চয়তা পাবে এবং বেশি লোন দেবে। মানুষ গবাদি পশু ব্যবসায় আসবেন, যার ফলে দেশের গোশত ও দুধের চাহিদা মেটানো সহজ হবে। শুধু খামারি নয়, ব্যক্তি পর্যায়ের পশু বীমার আওতায় আনা যাবে। উদ্যোগটি গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে মনে করেন তিনি।

 

প্রযুক্তিনির্ভর  প্রাণী বীমা প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার বলেন, খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষাসহ প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে বীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য জরুরি। বাংলাদেশ সরকার এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এই প্রযুক্তিকে আগ্রহের সঙ্গে দেখবে।

সূর্যমুখীর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিদা হক বলেন,  বীমা সুবিধায় খামারিরা নিশ্চিতে ব্যবসা করতে পারবেন। সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে।

 

 

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সূর্যমুখী প্রাণিসেবা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। আগে গবাদি প্রাণীর নিশ্চিত সনাক্তকরণ পদ্ধতি না থাকায় প্রাণী বীমা সেবাদান সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে গবাদি প্রাণীর তথ্য সংগ্রহ করে সেবা দানের কারণে সেহেতু এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাণীবীমা শিল্পের নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।