জাবিতে বিপ্লবী কনসার্ট, প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

হল বন্ধ ঘোষণা করার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা৷ সন্ধ্যায় ভিসির বাসভবনের সামনে একটি কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা৷
এখনও প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ‘নিপীড়ণের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা৷ সবগুলো হলের গেটে তালা দিয়ে দেয়া হলেও তারা অবস্থান করছেন ক্যাম্পাসে৷ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন ভিসির পদত্যাগের দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাস ছাড়বেন না৷

এদিকে, ক্যাম্পাসে এখনও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে৷ সকাল থেকে কয়েকবার বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে গেলেও কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি৷

সন্ধ্যায় ভিসির বাসভবনের সামনেই একটি কনসার্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা৷ তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য জানা যায়নি৷ উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ক্যাম্পাসে তার বাসভবনেই অবস্থান করছেন৷

আগস্ট মাস থেকে চলা এ আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী ছাড়াও কিছু সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং ছাত্র ইউনিয়নসহ বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন যুক্ত রয়েছে৷ প্রত্যক্ষভাবে যোগ দিয়েছেন কিছু শিক্ষকও৷

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজ হ্যাক করার অভিযোগ উঠেছে৷ এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ উত্থাপন করেন৷ ফেসবুকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ পেজটিতে গিয়ে দেখা যায় ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলনের পক্ষে নানা ধরনের পোস্ট থাকলেও বুধবার থেকে উপাচার্যের পক্ষে আন্দোলন নিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে৷

এদিকে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অভিযোগকারীদের অভিযোগ, বক্তব্য এবং ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘“যদি দুর্নীতি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে তার যে শাস্তি হত, যে অভিযোগকারী সে যদি ব্যর্থ হয় প্রমাণ করতে, তাকে কিন্তু সেই সাজা পেতে হবে৷ এটা কিন্তু আইনে আছে৷ মিথ্যা অভিযোগ করলে তার বিরুদ্ধে কিন্তু আইন ব্যবস্থা নেবে। সেই ব্যবস্থা কিন্তু আমরা নেব৷ আপনাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিলাম৷’’

আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়ি, অফিস, ঘেরাও-ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে বাধা দেয়াও এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী৷