ক্যানসার চিকিৎসার মধ্যেই যে ৩ অভ্যাস রপ্ত করছেন দীপিকা

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চার হাত এক হয়েছিল। তারপর অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন অভিনেত্রী দীপিকা কাকর ও শোয়েব ইব্রাহিম। এর মধ্যে খুবই অসুস্থ ছিলেন অভিনেত্রী। ধরা পড়ে ক্যানসার। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ভেবেছিলেন বিবাহবার্ষিকী বড় করে উদযাপন করবেন। কিন্তু সেখানেও বাধা।

জীবন এখন শুধু গ্ল্যামার বা পর্দার সামনে আবর্তিত হচ্ছে না। বরং সুস্থতার দিকে ধীরে ধীরে ফিরে আসার এক বাস্তব লড়াই চলছে দীপিকার জীবনে। আর তাই স্বাস্থ্যকর যাপন শুরু করেছেন অভিনেত্রী।

দ্বিতীয়বার যকৃতে টিউমার ধরা পড়ে দীপিকার। যদিও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই টিউমার সরানো হয়েছে। তবু এখনো নানা রকমের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন মুম্বাইয়ের টেলিভিশনের অভিনেত্রী। তার স্বামী অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহিম নিয়মিত ইউটিউব ভ্লগে স্ত্রীর যুদ্ধের খবর দিতে থাকেন।

সম্প্রতি স্ত্রীর সেই পথচলায় তার নতুন ডায়েট ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ঝলক দিলেন শোয়েব। যেন একেবারে বদলে দিয়েছে দীপিকার জীবনযাত্রার ছন্দ, যা আজকের ব্যস্তজীবনে অনেকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষণীয়।

প্রতিদিন সকাল ৭টায় উঠতে হয় দীপিকাকে। আগে যেখানে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল, এখন তা পাল্টাতে হয়েছে, শুধু স্বাস্থ্যের জন্য। তারপর মাঝে মধ্যেই হাঁটতে বের হন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার পর আর কিছু খাওয়া নিষেধ। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নতুন এই যাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন দীপিকা। কিন্তু তার জন্য এই অভ্যাসে রপ্ত হওয়া বেশ কঠিন বলেই মত শোয়েব ইব্রাহিমের।

সারাদিনের সূচি অনুযায়ী পথচলার অভ্যাস দীপিকার। সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস বদলানো আদপে সহজ নয়। কিন্তু অভিনেত্রী সকালে ঘুম থেকে উঠেন। ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে যদি ভোর ভোর ওঠা যায়, তাহলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি মেজাজও ভালো থাকে। দিনের অনেকটা সময় পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন দীপিকা।

নতুন এ রুটিনে হাঁটা বাধ্যতামূলক অভিনেত্রীর। প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটতে হয় তাকে। ফলে শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে আসছে। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর বা দীর্ঘ অসুস্থতার পর শরীরকে অল্প সক্রিয় রাখা দরকার। যেমন— হাঁটাহাঁটি খুবই কার্যকরী বিকল্প। শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং মন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথম প্রথম ক্লান্ত লাগলেও এ অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া উচিত।

আর ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে হজমের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সন্ধ্যার মধ্যে দিনের শেষ খাবার খেয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। দীপিকার শরীর এখন দুর্বল। তাই যথাসম্ভব স্বাস্থ্যকর নিয়ম মেনে চললে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য এ ধরনের সময়মাফিক খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরাও। নিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া হজমের উন্নতি ঘটায় এবং শরীরের জৈবঘড়িকেও ঠিক রাখে।

এ নিয়মগুলো দীপিকার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন তার চিকিৎসক। সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ নয়, নিয়মিত ঘুম, সময়মতো খাওয়া আর অল্প ব্যায়াম— এই তিনের সমন্বয়ই আসল চাবিকাঠি।

সম্পর্কিত খবর