সিএফও নিয়োগ: আইডিআরএর নির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন
বীমা কোম্পানিতে যোগ্য ও পেশাদার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নিয়োগে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জারি করা নির্দেশনা অপরিবর্তিত রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হলে বীমা খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অংশীজনরা।
মঙ্গলবার আইডিআরএর নির্দেশনার বাস্তবতা নিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) লাইফ ও নন-লাইফ টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সভায় এসব উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা জানান, নির্দেশনায় বিদেশি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের কথা বলা হলেও দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে অভিজ্ঞ বিদ্যমান সিএফওদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। এছাড়া নতুন শর্ত অনুযায়ী আইসিএবি বা আইসিএমএবি ফেলো/অ্যাসোসিয়েটদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিতে গেলে বীমা কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো আর্থিক চাপের মুখে পড়বে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) চেয়ে সিএফওর বেতন বেশি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে অভ্যন্তরীণ বেতনকাঠামোয় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে।
বীমা খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং ১৫-২০ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান প্রয়োজন। নির্দেশনায় এমন অভিজ্ঞতার শর্ত স্পষ্ট না থাকায় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় পর্যাপ্ত যোগ্য জনবল পাওয়ার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিতে পারে। তাছাড়া, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলেও সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে একবারে বাস্তবায়নের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে সময় বাড়িয়ে তা কার্যকরের প্রস্তাব দিয়েছে টেকনিক্যাল কমিটি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর আইডিআরএ বীমা কোম্পানিতে সিএফও নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করে সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত যোগ্যতা থাকা বিদ্যমান সিএফওদের অনুমোদনের জন্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে এবং যোগ্যতা না থাকলে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন যোগ্য সিএফও নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সব নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আইডিআরএর পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বীমা খাতের আর্থিক সুশাসন নিশ্চিতের উদ্যোগকে অংশীজনরা স্বাগত জানালেও দেশের বাস্তবতা, বিদ্যমান অভিজ্ঞ জনবল, বিভিন্ন কোম্পানির ব্যবসার পরিধি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করে অভিন্ন শর্ত আরোপ করায় এই সংকট ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।



