ট্রাস্ট লাইফের শেয়ার কারসাজি, তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানা
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
তবে এই ঘটনার সাথে ট্রাস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ কিংবা কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও মো. গিয়াস উদ্দিন। অর্থবাংলা-কে তিনি জানান, বিএসইসি থেকে জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সাথে ট্রাস্ট লাইফের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। তাঁরা হয়তো নিজস্ব উদ্যোগে কোনো সিকিউরিটিজ হাউস থেকে শেয়ার লেনদেন করেছেন। এমনকি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ ট্রাস্ট লাইফ কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো যোগাযোগও করেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, শেয়ার কারসাজি ঘটনায় জরিমানার আওতায় পড়েছেন আবু তাহের শিকদার, তার স্ত্রী উম্মা সালমা নিপা ও স্ত্রীর ভাই এস এম শাহেদ শাকিল। তাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম লেনদেন দেখানো এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।
বিএসইসির তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তিন বিনিয়োগকারী বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের শেয়ারে লেনদেন করেন। এ সময়ে তারা সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ৫১ লাখ ২২ হাজার ৬৯৩টি শেয়ার কেনেন। এতে তাঁদের ব্যয় হয় ২৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টাকা ৯০ পয়সা। একই সময়ে তাঁরা ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১০৯টি শেয়ার বিক্রি করে পান ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ পয়সা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রি থেকে তিন বিনিয়োগকারীর প্রকৃত মূলধনি মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ৮৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে তাঁদের হাতে থাকা ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৬০টি শেয়ারের অবাস্তবায়িত মুনাফা হিসাব করা হয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রকৃত ও অবাস্তবায়িত মুনাফার পরিমাণ ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি।
তদন্তে আবু তাহের শিকদারের নামে আইএফআইসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস, এমটিবি সিকিউরিটিজ ও কাজী ইক্যুইটিজে চারটি হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। এস এম শাহেদ শাকিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস এবং উম্মা সালমা নিপা অ্যারেনা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে লেনদেন করেন।
শুনানিতে তিন বিনিয়োগকারী কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। আবু তাহের শিকদার জানান, তিনি সরাসরি একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করতেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও আত্মীয়রা মুঠোফোনে নির্দেশ দিয়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া আদেশের মধ্যে মিল তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তাঁরা।
তবে অভিযুক্তদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হিসাব থেকে একই সময়ে বিপরীতমুখী আদেশ দেওয়া এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর ঘটনা কাকতালীয় হওয়ার সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা লঙ্ঘনের কারণে আবু তাহের শিকদারকে ৫৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, উম্মা সালমা নিপাকে ৫ লাখ টাকা এবং এস এম শাহেদ শাকিলকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম লেনদেন দেখানোর দায়ে তিনজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।



