কাস্টডিয়ান হিসেবে অনুমোদন পেল সিডিবিএল
মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটিকে এ বিষয়ে সম্মতিপত্র দিয়েছে।
এ অনুমোদনের ফলে এতদিন মূলত ডিপোজিটরি সেবা দিয়ে আসা সিডিবিএল এখন মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণ, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও নিতে পারবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব বলেন, সম্মিলিত তহবিলের ইউনিটধারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করবে সিডিবিএল। ইতোমধ্যে কয়েকটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান তাদের পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ান হিসেবে সিডিবিএলকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে বলেও জানান তিনি।
সংশোধিত মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালায় কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ফান্ডের সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি ইউনিটধারী ও ফান্ডের হিসাব সংরক্ষণ এবং ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনার দায়িত্বও কাস্টডিয়ানের ওপর দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন বিধিমালায় কোনো প্রতিষ্ঠানকে একই ফান্ড ব্যবস্থাপনায় একাধিক ভূমিকা পালনের সুযোগ না রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশসহ (আইসিবি) কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একই সঙ্গে ট্রাস্টি ও কাস্টডিয়ানের দায়িত্ব পালন করছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের পরিধি কমতে পারে। এতে সিডিবিএলের কাস্টডিয়ান সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে পুঁজিবাজারে লেনদেন কমে যাওয়ায় সিকিউরিটিজ নিষ্পত্তি থেকে সিডিবিএলের আয়ও কমেছে। প্রতি ১০ লাখ টাকা লেনদেন নিষ্পত্তির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ২৫ টাকা পায়। ফলে বাজারে লেনদেন কমলে এ খাতের আয়ও কমে যায়।
এ ছাড়া বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ থেকে সিডিবিএলের আয় আগের বছরের ১৩ কোটি টাকার বেশি থেকে কমে প্রায় ৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন মুনাফা ১৭ শতাংশের বেশি কমে ৫২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
মিউচুয়াল ফান্ডের কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলো ইউনিভার্সাল ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনসের (ইউএফএস) পরিচালিত তিনটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড থেকে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এসব ফান্ডের কাস্টডিয়ান ছিল আইসিবি। ওই ঘটনার পর কাস্টডিয়ানদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা জোরালো হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দক্ষ কাস্টডিয়ান সেবার ঘাটতি পূরণে সিডিবিএলের নতুন করে এ ব্যবসায় যুক্ত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৬৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ১৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ড, ৯টি ট্রাস্টি ও ৯টি কাস্টডিয়ান রয়েছে। সিডিবিএল যুক্ত হওয়ায় কাস্টডিয়ানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১০টিতে।
২০০০ সালের আগস্টে প্রতিষ্ঠিত সিডিবিএল দেশের পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজ সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে আসছে।



