শিরোনাম
icon মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা, আন্দোলন নয় icon বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার কোটি টাকা icon ঢাকায় বাস রুটে বড় পরিবর্তন icon মালয়েশিয়াগামীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার icon ২০৩০ পর্যন্ত কর অব্যাহতি চায় ডিবিএ icon কোন বোর্ডে পাসের হার কত? icon সোনার দামে বড় পতন icon এইচএসসিতে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ icon কৃষিঋণ মওকুফে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি icon এইচএসসির ফল প্রকাশ আজ, জানবেন যেভাবে icon সংঘাত দীর্ঘ হলে বাড়বে মূল্যস্ফীতি icon কমলা শাড়িতে মোহনীয় পরীমনি icon ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৩, হাসপাতালে ভর্তি ১,২৬২ icon বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা icon পাবনায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু icon রূপপুরে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু icon কমলো সোনার দাম icon এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ল ৩ বছর icon শীতের সবজি বাজারে, বিপাকে ক্রেতারা icon নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম icon ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী icon স্বাস্থ্যবীমার দাবি পরিশোধ করল বেঙ্গল ইসলামী লাইফ icon যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পিএইচপি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড পরিদর্শন icon ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ মৃত্যু, ভর্তি ১,৮৮৬ জন icon প্রকৃতি পুনরুদ্ধারে ২৯৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের তাগিদ
down of head

বিমা খাতে বকেয়া ৭ হাজার কোটি: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

দেশের বিমা খাতে পলিসিধারীদের অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। বিপুল এই বকেয়া দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিমা খাতে পলিসি দাবির পরিশোধের হার ৫৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায় বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ লক্ষ্যে বিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক, দাবি পরিশোধে বাধা চিহ্নিত করা এবং সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আইডিআরএর কনফারেন্স রুমে দ্বিতীয় দফায় অপরিশোধিত দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বিমা খাতে বর্তমানে পলিসি ডিসপোজাল রেট ৫৭ শতাংশ। যে শিল্পে ডিসপোজাল রেট ৫৭ শতাংশ, সেখানে বকেয়া দাবির পরিমাণ এত বেশি হওয়া উদ্বেগের বিষয়। আইডিআরএর হিসাব অনুযায়ী, পুরো বিমা খাতের মোট বকেয়া বা অপরিশোধিত দাবির পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

বকেয়া দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগকে দুটি সমান্তরাল ধারায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান বলেন, প্রথমত বিভিন্ন বিমা কোম্পানির সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান ‘গভর্ন্যান্স রিভিউ মিটিং’ করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলো কেন পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধ করছে না, কিংবা কোন ধরনের সমস্যার কারণে দাবি আটকে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক কোম্পানির ক্ষেত্রে কিছু আনুষঙ্গিক বা বিশেষ ইস্যু রয়েছে, যেগুলোর কারণে দাবি পরিশোধে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নন-লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এসবিসির সঙ্গে কিছু বিষয় রয়েছে। সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো পলিসিধারীদের দাবি পরিশোধে বাধা হয়ে না থাকে।

অন্যদিকে, সাত-আটটি বিমা কোম্পানিকে তুলনামূলকভাবে ‘ডিস্ট্রেসড’ বা সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি বলেন, এসব কোম্পানির আর্থিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে।

তবে শুধু ওই সাত-আটটি সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিকে কেন্দ্র করেই আইডিআরএর কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রায় ৭২টি কোম্পানির মধ্যে মাঝারি পর্যায়ে থাকা কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। এসব বৈঠকে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও দাবি পরিশোধের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

আইডিআরএর সামগ্রিক লক্ষ্য সম্পর্কে মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বর্তমানে বিমা খাতের ৫৭ শতাংশ ডিসপোজাল রেটকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চান তারা। খাতভিত্তিকভাবে এই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হলে বিমা খাতের দাবি নিষ্পত্তিতে একটি কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানো যাবে।

এদিকে অপরিশোধিত দাবি নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতায় সোমবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি বিমা কোম্পানির ৫ হাজার ৮৬৮ জন পলিসিধারীর দাবি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ দফায় মোট ২৩ কোটি ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭১ টাকার অপরিশোধিত বিমা দাবি পরিশোধ করা হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানির সারাদেশের পলিসিধারীদের দাবির বিপরীতে এসব অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ বিমা দাবি নিষ্পত্তির পাশাপাশি পলিসিধারীদের আস্থা পুনর্গঠনে আরও একটি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

আইডিআরএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিমা খাতে দীর্ঘদিনের অপরিশোধিত বৈধ দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করা এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা ও সমস্যাগুলো আলাদাভাবে বিবেচনায় নিয়ে দাবি পরিশোধের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর