সংস্কার বাস্তবায়নে আস্থা বাড়বে বিনিয়োগকারীদের

বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটির মতে, সংস্কারের উদ্যোগগুলো দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দিতে পারলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। অ্যামচেম আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও সংগঠনটির সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য মূলধনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ভিত্তি হলো একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ।

বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য আরও সহজ করা গেলে দেশি-বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি চলমান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও জানান।

করব্যবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় রাজস্ব আহরণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রক পরিবেশের পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদীয়মান ব্যবসার জন্য মূলধনপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করেছে শেভরন বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, ট্রান্সকম গ্রুপ ও ভিসা।

সম্পর্কিত খবর