ইউনাইটেডের গ্যাস বিল অনিয়মে প্রাথমিক সত্যতা
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিল বাবদ ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বেশি অর্থ পরিশোধ না করে আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে অনিয়মের মাধ্যমে আইপিপি রেটের সুবিধা নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
দুদকের উপপরিচালক (বিঃ অনুঃ ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে জমা দেওয়া অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিতাস গ্যাসের ক্ষেত্রে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের গ্যাস বিল বাবদ ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা এবং কর্ণফুলী গ্যাসের ক্ষেত্রে অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। সব মিলিয়ে অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা।
দুদক জানায়, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার, সরকারি সম্পত্তি দখল এবং গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এর আগে ইউনাইটেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং নেপচুন হাউজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


