দিবালোকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদরাসা পড়ুয়া কিশোরীকে বাড়ি থেকে দিন-দুপুরে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কিশোর গ্যাং চক্রের বিরুদ্ধে। তবে এনিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে।

গত বছরের (২০২৪ সাল) ২৩ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটেছে। ভোক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ভ্যানচালক মো. ফজলুল হক (৪০) বলেন, ‘আমার মেয়েকে কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্য নিহত জিয়ারুল ইসলাম বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তাতে আমি রাজি হইনি। এক পর্যায়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবরের বিকালে ফাঁকা বাড়ি থেকে কিশোর গ্যাংয়ের আরেক সদস্য জিলানীর (১৮) সহযোগিতায় আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে যায় জিয়ারুল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও মেয়েকে পাইনি।

পরদিন সকালে জানতে পারি জিয়ারুলের নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে আমার আমার মেয়েকে জোর করে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জিয়ারুলের বাবা-মাকে জানালে তারা আমার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যাবে বলে আশ্বাস করে। কিন্তু এভাবে আরও ৪ দিন অতিবাহিত হয়, চার দিন মেয়েকে রেখে এসব কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেরা কী করেছে তা তো আর বোঝার বাকি নেই। আমার মেয়েটাকে জিয়ারুল শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ ধর্ষণ করেছে। আমি এবং আমার মেয়ে এগুলো পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান-ইউপি সদস্যকে জানালে আমাকেসহ আমার মেয়েকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি গরিব মানুষ, আমার তেমন জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও ভাই-বোন নাই। পরে কিশোর গ্যাং এর ভয়ে কাউকে কিছু বলিনি। আর বলতেও চাই না।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার কিছুদিন পর অক্টোবর মাসের শেষ দিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে নেশাগ্রস্ত হয়ে বাজারে তাদের দোকানের সামনেই মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা নিয়ে জিয়ারুলের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে নিহত হয় কিশোর জিয়ারুল হক। তবে বিষয়টি নিয়ে ভোক্তভোগী কিশোরীর বাবা কিংবা পরিবারের কেউ আর মুখ খুলেনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, এ বিষয়ে এলাকার কয়েকজন আমাকে বলেছে, তবে মেয়ের পক্ষের কেউ আসেনি তাই এ ব্যাপারে আমি ব্যবস্থা নিতে পারি নাই। তবে কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেদের জন্য আমার ইউনিয়নের মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ। প্রায় সময়ই ওরা এমন কোন অপরাধ নাই যে করছে না। চুরি-ছিনতাই মাদক ও ধর্ষণ সহ সকল প্রকার অপরাধগুলো করে আসছে। এ নিয়ে আমি তাদের অভিভাবকদের বার বার সতর্ক ও বিচার করেও থামাতে পারছি না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতাম।

সম্পর্কিত খবর