পোল্ট্রি খাতে বিপর্যয় সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায়
সরকারি নীতিনির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভাবে দেশের পোল্ট্রি শিল্প আজ ভয়াবহ সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, খাদ্যশস্য, ভুট্টা, সয়াবিন মিল, ব্রয়লার বাচ্চা ও ওষুধের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে অনেক খামারি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন যা পুরো শিল্পখাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিপিএ জানায়, মাত্র এক দশক আগেও একটি ব্রয়লার বাচ্চার দাম ছিল ১৮-২০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক কেজি খাদ্যের দাম যেখানে ছিল ৩৮-৪০ টাকা, এখন তা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে একটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনে প্রতি কেজিতে ১২০-১২৫ টাকা খরচ পড়ছে, অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। ফলে খামারিরা প্রতিটি মুরগিতে লোকসান গুনছেন ১০-১৫ টাকা।
সংগঠনটির দাবি, সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মুষ্টিমেয় ফিড, ডে-ওল্ড চিক, ওষুধ ও কেমিক্যাল আমদানিকারক কোম্পানিগুলো বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করেছে। তাদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে ছোট ও মাঝারি খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ৭০ শতাংশ পোল্ট্রি উৎপাদন ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের মাধ্যমে হয়। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারণে অস্বচ্ছতার কারণে এ খাতের উদ্যোক্তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
৭ দফা দাবি:
বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সরকারের কাছে দ্রুত নিম্নলিখিত ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে:
১. পোল্ট্রি খাতের জন্য সার্টিফিকেট ভিত্তিক ফিড, বাচ্চা, ভ্যাকসিন ও ওষুধের মূল্য সরকার নির্ধারণ করতে হবে।
২. অবিন্যস্ত করপোরেট ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ভেঙে, ন্যায়সঙ্গত বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৩. প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও নীতিনির্ধারণী প্রণোদনা দিতে হবে।
৪. ফিড, বাচ্চা ও ওষুধের মূল্যে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ ও কার্যকর নজরদারি চালু করতে হবে।
৫. উৎপাদন খরচ অনুসারে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ ও ১০% লভ্যাংশ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি দিতে হবে।
৭. দুর্নীতি ও করপোরেট কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংগঠনটি আরও জানায়, আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে সরকার যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)-এর আওতায় সকল প্রকার উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।
সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, “আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, যেন ১৫ দিনের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়। অন্যথায় বাধ্য হয়ে সারাদেশে খামার বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদিত হয়। একটি পরিবারের গড় চাহিদা পূরণের অন্যতম উৎস এই খাত। পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংস হলে ডিম ও মাংসের বাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দেবে এবং সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।


