ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের চেয়ে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি

স্বর্ণের দাম সব দেশেই বাড়ছে; তবে পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের তুলনায় দাম বেশি বাংলাদেশে। দুই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে এই ধাতুর মূল্য বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রশ্ন তৈরি হয়েছে- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতার কারণ কী ? এর দাম কি কমতে পারে, নাকি আরও বাড়বে? অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে তফাৎ কতটা? এমন নানা বিষয় ঘুরেফিরে আসছে মানুষের মনে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১.১০ গ্রাম) চার হাজার দুইশ ডলারের ঘরে পৌঁছায়।

দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৫ এর অক্টোবরে হয়েছে দুই লাখের বেশি, যা বর্তমানে ভরি প্রতি দুই লাখ ১৬ হাজার ৩৩৩ টাকা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে স্বর্ণের দাম নিবিড়ভাবে যুক্ত। অর্থাৎ যুদ্ধ কিংবা অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দামে এক ধরনের প্রভাব পড়ে।

এদিকে, দাম বেড়েছে বলেই যে ঢালাওভাবে এর চাহিদা কমেছে বিষয়টি এমনও নয়।

তবে এক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের স্বর্ণ কেনার সুযোগ বা প্রবণতা অনেক কমে আসছে বলেও মনে করেন তারা।

স্বর্ণের দাম কেন বাড়ছে?

চাহিদা বেশি হলেও স্বর্ণের উৎপাদন অসীম নয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে চার হাজার ৯৪৬ টন স্বর্ণ সরবরাহ করা হয়, গত বছর যা বেড়ে চার হাজার ৯৭৫ টন হয়েছে।

তবে এই সময়ে বৈশ্বিক নানা কারণে স্বর্ণে ব্যপকভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যক্তিখাতের বড় বিনিয়োগকারীরা।

২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর এক হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনেছে যা ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে গড়ে ৪৮১ টন ছিল।

গত বছর শীর্ষস্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান ও চীন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দামে পার্থক্য

বিশ্বের প্রতিটি দেশে স্বর্ণের দাম ভিন্ন হয়, কারণ দাম নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দেশের শুল্ক একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

তবে ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী, বিদেশ থেকে একজন যাত্রী বছরে মোট ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের গয়না বিনা শুল্কে আনতে পারেন।

এছাড়া বছরে একবার ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি মাত্র স্বর্ণের বার আনতে পারবেন একজন যাত্রী। তবে এক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১ ভরি = ১১.৬৬ গ্রাম) পাঁচ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।

একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ রিজার্ভের পরিমাণ এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে সেই দেশের মুদ্রা কতটা শক্তিশালী তাও স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করে।

ওয়ার্ল গোল্ড কাউন্সিলের (স্বর্ণের বাজার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান যার সদস্য ৩১টি স্বর্ণ খননকারী কোম্পানি) ওয়েবসাইটে ১৫ই অক্টোবর সন্ধ্যার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাজারে প্রতি গ্রাম (১১.৬৬ গ্রাম = ১ ভরি) স্বর্ণের মূল্য ১৩৪.৯৬ মার্কিন ডলার বা ১৬ হাজার ৪২৫ টাকা।

একই সময়ে, ভারতে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি গ্রামের দাম ১৩৪.৭০ মার্কিন ডলার, পাকিস্তানে ১৩৬.৯৪ মার্কিন ডলার, নেপালে ১২৫.০৫ মার্কিন ডলার, মালয়েশিয়ায় ১৩১.১৪ মার্কিন ডলার, সৌদি আরবে ১২৬.৯১ ডলার এবং কাতারে ১২৭.৯৭ ডলার।

‘আমাদের দেশ চলে রিসাইকেল গোল্ডের ওপর, এ কারণেই হয়তো একটু ঊনিশ-বিশ হতে পারে,’ বলেন তিনি।

স্বর্ণের দাম কি কমতে পারে?

বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণে বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ এমন আলোচনা থেকেই সামনে আসছে দাম কমার প্রশ্নটি। স্বর্ণের বাজারে ধারাবাহিক অস্থিরতার কারণে এ বিষয়ে সঠিক পর্যালোচনা দেওয়া বেশ কঠিন বলেই দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ের ওপর স্বর্ণের বাজার নির্ভর করে। তাই বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে মন্তব্য করা বেশ কঠিন।

বাজুসের সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে ডলারের অবনমনসহ নানা কারণে স্বর্ণের দাম সহসা কমছে না।

তিনি বলেন, ‘জিও পলিটিকাল টেনশন যদি না কমে , যুদ্ধ চলমান থাকে, আমেরিকার ট্যারিফ যুদ্ধ বন্ধ না তাহলে ইমিডিয়েট গোল্ডের দামও কমে যাবে এর সুযোগ নাই।’

তবে বাজারের ওপর কেবল ব্যবসায়িদের নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলো। এক্ষেত্রে স্বর্ণ চোরাচালানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন জাহিদ হোসেন।

                              #আফেই

সম্পর্কিত খবর