পুলিশ পরিচয়ে প্রেম-বিয়ে, অতঃপর…

নিজেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পূর্ব থানার এসআই পরিচয় দিতেন মো. বাবুল ওরফে হারুন। সবসময় পুলিশের পোশাক পড়েই ঘুরে বেড়াতেন। ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মানুষকে নানা ফাঁদে ফেলে করতেন প্রতারণা। এমনকি ওই পরিচয়ে বছর খানেক ধরে প্রেমের সম্পর্ক টিকিয়ে রেখে করেছেন বিয়েও। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। এক নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার পর গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। রাতে উত্তরা এলাকা থেকে হারুনকে গ্রেফতার করা হয়।

দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন।

ডিসি আশরাফ হোসেন বলেন, জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার চরসাতারিয়া এলাকার মৃত ঈমান আলীর ছেলে মো. বাবুল ওরফে হারুন। গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক দেখান নরসিংদীর হেলেনা বেগম। পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যেতে পোশাক পরিহিত হারুনের কাছে সহযোগিতা চান। হারুন সহযোগিতার পাশাপাশি হেলেনার মোবাইল নম্বর রেখে দেন। পরদিন আবারো হেলেনা চিকিৎসক দেখাতে আসবেন এ তথ্যও জেনে নেন হারুন। এরপর ১৩ জানুয়ারি হেলেনা ও তার বান্ধবী রিনা বেগম চিকিৎসক দেখাতে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে যান। এ সময় হাসপাতালের সামনে এসে পুলিশ পরিচয়দানকারী হারুনকে দেখতে পান হেলেনা। পরে হারুন হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে হেলেনাকে চিকিৎসক দেখাতে সহযোগিতা করেন।

আশরাফ হোসেন বলেন, হেলেনা চিকিৎসক দেখানোর সময় রিনা ও হারুন বাইরে অপেক্ষা করেন। এরমধ্যে রিনা হাতের ব্যাগ রেখে টয়লেটে যান। ফিরে এসে দেখেন হারুন নেই। রেখে যাওয়া ব্যাগে নগদ ২৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও হারুনকে না পেয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী হেলেনা। পরে প্রতারক হারুনকে গ্রেফতার করা হয়। হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, হারুন নিজেকে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানায় এসআই হিসেবে পরিচয় দেন। পুলিশের এসআই পরিচয় দিয়ে হারুন শিউলি বেগম (৩৮) নামে এক নারীর সঙ্গে এক বছর ধরে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক করে প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে করেন।

ডিসি জানান, হারুন পুলিশ পরিচয় ও পোশাক পরা অবস্থায় ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করে আসছিলেন। হারুনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা এবং নানা অপরাধে দেশের বিভিন্ন থানায় মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর