ডব্লিউটিওর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আগামীতে আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। গতকাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প কর্তৃক ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব শরিফা খান।
সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রধান প্রধান আলোচনা ও সিদ্ধান্ত এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে আসন্ন সময়ে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে ওই বৈঠকের তাত্পর্যগুলো পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং থিংক ট্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়েছে।
সেমিনারে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠকের জন্য বাংলাদেশকে কীভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিত, তা নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সর্বশেষ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণরত দেশগুলোর মসৃণ ও টেকসই উত্তরণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে। এটি উত্তরণরত দেশগুলোর জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরো বলেন, আলোচনার পথ খোলা আছে। উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
ইআরডি সচিব শরিফা খান বলেন, আগামীতে সার্বিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজন হবে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষতার উত্কর্ষ সাধন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম বৈঠকের জন্য এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবটি দেয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পরবর্তী জেনারেল কাউন্সিলের প্রথম সভায় উপস্থাপন করা হবে। তিনি উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় গবেষণাকর্ম পরিচালনা, বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রস্তাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সঙ্গে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওই সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম ও এসএসজিপি প্রকল্পের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এক্সপার্ট নেছার আহমেদ।


