চলতি বছর চীনে সয়াবিন চাহিদা ৬% কমার আশঙ্কা
চীনে সয়াবিনের চাহিদা দুর্বল হতে শুরু করেছে। এ কারণে কমছে আমদানিও। চলতি বছর পণ্যটির চাহিদা গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমতে পারে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ কোটি ৮ লাখ টনে। সম্প্রতি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটের করা এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
মূলত কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং মহামারী প্রতিরোধে আরোপিত লকডাউন চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মাড়াই কার্যক্রম অব্যাহতভাবে কমছে।
এদিকে চলতি বছর দেশটির সয়াবিন আমদানিও কমতে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৮ লাখ টনে, যা আগের প্রাক্কলনের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এর আগে ৯ কোটি ৩০ লাখ টন সয়াবিন আমদানির প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে মে-ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটির আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ১ শতাংশ কমতে পারে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬ কোটি ২৪ লাখ টনে।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের তথ্য বলছে, জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত চীন ২ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি কমেছে ১ শতাংশ।
চীনের ব্যবসায়ীরা জানান, বছরওয়ারি আমদানি চাহিদার পরিমাণ ধরা হয়েছে নয় কোটি টন। আমদানিতে চলমান শ্লথগতি আগামী মাসগুলোয়ও অব্যাহত থাকবে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের আগের প্রাক্কলনে জুনে চাহিদা ৭৮ লাখ টনে থাকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্রাক্কলনে তা কমিয়ে ৭০ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে খুব কমসংখ্যক ক্রেতাকেই সক্রিয়ভাবে সয়াবিন কিনতে দেখা গিয়েছে। ২৪ মে পর্যন্ত জুনে সরবরাহের জন্য প্রায় ৬৫ লাখ সয়াবিন কেনা হয়েছে।
অন্যদিকে পরবর্তী মাসগুলোর জন্যেও চাহিদা প্রক্ষেপণ কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে সরবরাহের জন্য চাহিদা কমিয়ে ৭১ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগের সমীক্ষায় ৭৬ লাখ টন চাহিদার কথা বলা হয়েছিল। আগস্টে চাহিদার পরিমাণ ৭৩ লাখ টন থেকে কমিয়ে ৭০ লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন চাহিদা প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরবরাহের জন্য মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। আগস্টে সরবরাহের জন্য পূরণ করা হয়েছে ৩৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময় যা ছিল ৭০ ও ৮০ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মে ও জুনে মাড়াই কেন্দ্রগুলোয় কার্যক্রম গড়ে ৬৭ শতাংশে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। চাহিদা ও আমদানির মতো মাড়াই কার্যক্রমও আগের তুলনায় কমবে।



