৯ মাসে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার গম আমদানি

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ব্যাপক হারে গম আমদানি বেড়েছে। এর পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি বেড়েছে পাঁচ গুণ।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই-মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে গম আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ১৫০ টন। আমদানীকৃত এসব গমের মূল্য ১ হাজার ৩০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ পর্যন্ত গম আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৮ টন, যার মূল্য ২৮৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, কৃষিপণ্য হিসেবে গম আমদানি বেড়েছে ব্যাপক হারে। কিন্তু খাদ্যশস্যটি আমদানি করে সরকার কোনো রকম রাজস্ব আয় করতে পারে না।

ভোমরা স্থলবন্দরে কৃষিজাত পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাব্বির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. শাহিন হোসেন জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ ট্রাক গম আমদানি করছে তার প্রতিষ্ঠানটি, যা গত অর্থবছরের এ সময়ের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। গত বছর প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ট্রাক গম আমদানি হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশীয় বাজারে গমের চাহিদা বেশি থাকায় আমদানি বেড়েছে।

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারের গম ভাঙানো মিল মুকন্দ ফ্লাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুকন্দ কুমার মজুমদার জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় চলতি বছর দেশে গমের চাহিদা ব্যাপক। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমাণ গম উৎপাদন হয়, তাতে চাহিদা মেটে না। ফলে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গম আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়।

তার মিলে সপ্তাহে গমের চাহিদা রয়েছে ১৫-২০ হাজার কেজি। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গমে চাহিদা মেটে না। ভারত থেকে আমদানীকৃত গম সংগ্রহ করে মিলের চাহিদা মেটান। তিনি বলেন, বর্তমানে গমের পাইকারি দর কেজিপ্রতি ৩১-৩২ টাকা।

 

সম্পর্কিত খবর