ডায়রিয়া আরও বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতার পরামর্শ
ডায়রিয়া বা কলেরা আরও বেড়ে গেলে দুবাই, কাতার, আবুধাবিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি পাঠানো স্টপ (বন্ধ) রাখার সতর্কতা জারি করেছে। এমন সতর্কতার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ২৫শে এপ্রিল সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দেশে ডায়রিয়ার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। আর ডায়রিয়া বা কলেরা যদি আরও বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে দুবাই, কাতার, আবুধাবিসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি পাঠানো স্টপ (বন্ধ) রাখার সতর্কতার কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, ম্যালেরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূলের কথা তুলে
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২০ সালের তুলনায় দেশে ২০২১ সালে ম্যালেরিয়ার রোগী বেড়েছে। দেশে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মোট ম্যালেরিয়া রোগী ছিল ৭ হাজার ২৯৪ জন ও মৃত্যুবরণ করেছে ৯ জন। আগের বছরে রোগী ছিল ৬ হাজার ১৩০ জন এবং মারা গিয়েছিল ৯ জন।
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলার ৭২টি উপজেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ রয়েছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, এবং বান্দরবান – এই তিন পার্বত্য জেলায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার সর্বাধিক। এই তিন জেলাকে উচ্চ ম্যালেরিয়া প্রবণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয় ।
গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিবি অ্যান্ড ম্যালেরিয়া (GFATM)-এর আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া কার্যক্রমকে আরোও সম্প্রসারিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করেছে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কার্যক্রমের সঙ্গে ব্র্যাক সহ ৪ টি এনজিওর সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করছে।
ম্যালেরিয়াপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ম্যালেরিয়া সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। গত ২০০৮-২০২১ সালে দেশে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ও ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু হ্রাসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ২০০৮ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ম্যালেরিয়াজনিত অসুস্থতা শতকরা ৯৪ ভাগ এবং মৃত্যু শতকরা ৯৩ ভাগ করেছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ মোট ম্যালেরিয়া রোগী ছিল ৭ হাজার ২৯৪ জন ও মৃত্যুবরণ করেছে ৯ জন। উচ্চ ম্যালেরিয়াপ্রবণ তিন পার্বত্য জেলায় মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৯৪ শতাংশ পাওয়া গেছে। ম্যালেরিয়া নির্মূলের আওতাধীন ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ৮টি জেলায় মোট ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ জন। আশা করা যাচ্ছে, এই জেলাগুলিতে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
এবারের ম্যালেরিয়া দিবসের শ্লোগান “Harness innovation to reduce the malaria disease burden and save lives”. “উদ্ভাবনী কাজে লাগাই, ম্যালেরিয়া রোধে জীবন বাচাই”। এই স্লোগান বাংলাদেশের জন্য খুবই সময়োপযোগী কারণ বাংলাদেশ সত্যিই সত্যিই ম্যালেরিয়া নির্মূলের জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ব্যবহার করছে। উদ্ভূত কোডিও-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবারের বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবসে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ম্যালেরিয়া কার্যক্রম চলমান রাখার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।
কোভিও-১৯ পরিস্থিতির মাঝেও দেশে ম্যালেরিয়া প্রবণ অঞ্চলে আবশ্যিক ম্যালেরিয়া সেবা প্রদান (Coro malaria intervention) অব্যাহত রয়েছে। সকল সরকারি হাসপাতাল ও ব্র্যাকসহ সহযোগী এনজিও সংস্থাগুলির সকল ল্যাবরেটরি ম্যালেরিয়া সনাক্ত ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য খোলা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী / স্বাস্থ্যসেবিকা, সিএইচসিপিগণ ম্যালেরিয়া সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এনজিও কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ম্যালেরিয়ার সঙ্গে কোভিড-১৯ বিষয়েও জনসচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করছে। সকল ম্যালেরিয়া সেবা প্রদানকারীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা (মাঞ্চ, গ্লাভস ও স্যানিটাইজার ব্যবহার, বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া) ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে দীর্ঘমেয়াদি কীটনাশকযুক্ত মশারি প্রদান করা হচ্ছে। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচির পক্ষ থেকে ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ দশমিক ৭ মিলিয়নের বেশি দীর্ঘমেয়াদি কীটনাশকযুক্ত মশারি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ম্যালেরিয়া নির্মূলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী / সীমান্তবর্তী দেশসমূহে চলাচল / পারাপারকারীর মধ্যে ইয়পোর্টেড (Imported) ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। এই চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী / সীমান্তবর্তী দেশসমূহের সঙ্গে সমন্বয় সাধন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।


