শিরোনাম
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, চড়া ইলিশের দামবৈদেশিক ঋণের টাকা এফসি হিসাবে রাখার সুযোগসেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, ভর্তি ১,৮৬০দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, প্রজ্ঞাপন জারিইন্দোনেশিয়ায় রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশবিডি ল্যাম্পসের বোর্ড সভা ১৪ অক্টোবরসূচকের উত্থানে চলছে লেনদেনওয়াইম্যাক্স ইলেকট্রোডের বোর্ড সভা ১৫ অক্টোবরকোটি টাকা ইস্যুতে আসলামের নিয়োগ বাতিল!বীমা দাবির চেক দিয়েছে এনআরবি লাইফডিজিটাল প্রতারণা শনাক্তে এআই ব্যবহারের ওপর জোর ডিএসই চেয়ারম্যানেরডেঙ্গুতে আরও ১০ মৃত্যু, ভর্তি ১,৯৯৬২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীপতনে শেষ ডিএসইর লেনদেন
down of head

আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, নেতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে। সে ক্ষেত্রে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ১১০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। রাশিয়া থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আমদানি করে গম। গম আসে ইউক্রেন থেকেও। বাংলাদেশের গমের মোট চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ আসে এই দুই দেশ থেকে। প্রতিবছর এই দুই দেশ থেকে প্রায় একশ কোটি টন গম আসে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে গমের সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দেশের মোট ভুট্টার চাহিদার ২০ শতাংশ ও সূর্যমুখী তেলের ৮০ শতাংশই আসে এই দুই দেশ থেকে। এই দুই দেশ থেকে আসে তুলা, সরিষা ও মসুর ডালও। যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে গম, সূর্যমুখী তেল ও ভুট্টার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নতুন বাজার ধরা হয় রাশিয়াকে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় ৬০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

জানা গেছে, তেলের অব্যাহত দাম বৃদ্ধির কারণে চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে জাহাজ ভাড়া বাড়ছে। অন্যদিকে যে দামে তারা পোশাক রপ্তানির আদেশ নিয়েছেন, সেখানেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পোশাক রপ্তানিকাদের সংগঠন- বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমাদের সময়কে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে ইউরোপে রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা নেই। তবে এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সার্বিক অর্থনীতি সংকটে পড়বে। সুইফট সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হলে আমাদের পাওনা আদায়ে জটিলতা তৈরি হবে। আবার রাশিয়ায় যদি জাহাজ বা বিমান পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তা হলে এখানে তৈরি করা পোশাকও পাঠাতে পারব না।’

তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এতেও পোশাকশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রাশিয়া থেকে রপ্তানির যে পেমেন্ট আসার কথা, সেটা যুক্তরাষ্ট্র হয়েই আসে। সেটা বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ৮০ শতাংশ রপ্তানির পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে ২০ শতাংশ পেমেন্ট নিয়ে, যে সমস্যা এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে।’

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসার আশঙ্কা করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া এই যুদ্ধ ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশের রপ্তানি কমতে পারে। কারণ বাংলাদেশের একক বড় রপ্তানি বাজার এখনো ইউরোপ।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু আমাদের সময়কে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনায় বসছে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে ভালো। আর যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাতে আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। রাশিয়া ও ইউক্রেনে গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি হয়। সেখানে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হবে।’

তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘রাশিয়া বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার খুব বড় না হলেও ইউরোপে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়বে।’

সম্পর্কিত খবর