পাট খাতে অবদানে সম্মাননা পাচ্ছে ১১ ব্যক্তি ও সংগঠন

এবারের জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে পাট খাত উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম, পাটবীজ আমদানিতে নির্ভরশীলতা হ্রাস, পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা অর্জন, প্রচলিত ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখার জন্য ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে। গতকাল দুপুরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২২’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক।

এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমানসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরস্কার ছাড়াও পাটসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাতটি শুভেচ্ছা স্মারক দেয়া হবে। এবারের জাতীয় পাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারো ৬ মার্চ ‘জাতীয় পাট দিবস-২০২২’ পালিত হবে। পাট খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নতির দ্বারা সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবদান রাখার জন্য এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১১ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হবে।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বর্তমান সরকার পাটপণ্যের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের লক্ষ্যে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ আইনের আওতায় ১৯টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাট চাষ নিশ্চিতকরণে বীজ সরবরাহ সঠিক রাখার পাশাপাশি কৃষককে অন্যান্য উপকরণ সহায়তার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে। পাট মৌসুমে হাটবাজারে নজরদারি জোরদার করা, নিয়মবহির্ভূত মজুদ ও বিদেশে কাঁচা পাট পাচার রোধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বিজেএমসির সাময়িক বন্ধকৃত মিলগুলো অবসায়নের পর সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুনরায় চালুকৃত মিলে অবসায়নকৃত শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবে।

মন্ত্রী বলেন, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভূমিকা একটি স্বীকৃত ইতিহাস। পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের গুরুত্ব বিবেচনায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে সোনালি আঁশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ উদযাপন করতে যাচ্ছে। কালের পরিক্রমায় কৃত্রিম তন্তুর (পলিথিন) ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান টেকসই উন্নয়নের যুগে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটপণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে, পাটপণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাটচাষী, পাটপণ্যের উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তা, পাটজাত পণ্যের ব্যবহারকারীরা সবাইকে সম্পৃক্ত করতেই ‘জাতীয় পাট দিবস’ দেশব্যাপী উদযাপিত হবে।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, ৬ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন, ঢাকায় পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠান এবং জেডিপিসি চত্বরে ৬-৮ মার্চ তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক প্রধান অতিথি হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

 

সম্পর্কিত খবর