৯ শতাংশ দর হারিয়েছে এমারাল্ড অয়েল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির ৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এ বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে আবারো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ। অবশ্য বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারদরে ভাটা পড়েছে। ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৩৭ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৯ টাকা ৫০ পয়সা ও ৪৫ টাকা ৩০ পয়সা।

ঋণ কেলেঙ্কারির মামলায় জামিন নিয়ে এমারাল্ড অয়েলের উদ্যোক্তারা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানিটির। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের জুলাইয়ে আবারো উৎপাদন চালুর ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন চালু করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও সেটি সম্ভব হয়নি।

উৎপাদন চালু করতে না পারার কারণ হিসেবে সে সময় এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ জানায়, কঠোর লকডাউনের কারণে সব অফিস ওই বছরের ২৩ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এ কারণে কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স নবায়ন ও সংগ্রহ করতে পারেনি। একইভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিল করা এবং শেয়ার হস্তান্তর কার্যক্রমও পিছিয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে আরো সময় প্রয়োজন। এ অবস্থায় কোম্পানির পর্ষদ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। ইস্যুগুলো নিষ্পত্তি করে উৎপাদন চালুর কথা জানায় কোম্পানিটি।

২০১১ সালে স্পন্দন ব্র্যান্ডের রাইস ব্র্যান অয়েল (চালের কুঁড়ার তেল) উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে ব্যবসায় নেমেছিল এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ। তিন বছরের মাথায় ২০১৪ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। এর এক বছরের মধ্যেই বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির মামলায় জড়িয়ে পড়েন কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা। জামিন নিয়ে উদ্যোক্তারা বিদেশ পালিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়েন কোম্পানিটির বিনিয়োগকারীরা।

সম্পর্কিত খবর