ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে গমের বৈশ্বিক মজুদ
গমের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ টন নির্ধারণ করেছে আইজিসি ছবি: রয়টার্স
গমের বৈশ্বিক মজুদ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিলের (আইজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত গ্রেইন মার্কেট রিভিউ রিপোর্টে দেখা গেছে, কৃষিপণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন ৪০ লাখ টন করে কমছে। গত মাসের প্রাক্কলনের পর থেকে মজুদ কমছে ২০ লাখ টন করে।
আইজিসি জানায়, গমের বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। মূল কারণ ইরানে ভয়াবহ উৎপাদন বিপর্যয়। পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে খরা বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। এ কারণে গম উৎপাদন কমে ১৩ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ২১ শতাংশ কমে ১ কোটি ১৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেও উৎপাদন কমছে।
২০২১-২২ মৌসুমের জন্য গমের বৈশ্বিক মজুদ পূর্বাভাস কমিয়ে ২৭ কোটি ৪০ লাখ টন ধরা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় মজুদ কম হবে ৪০ লাখ টন। এর মধ্য দিয়ে তিন মৌসুমে প্রথমবারের মতো গমের বৈশ্বিক মজুদ কমতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইজিসি।
এক বছরের ব্যবধানে মজুদ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশগুলোয়। এসব দেশের মজুুদ ৬৬ লাখ টন করে কমে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টনে নামার আশঙ্কা করছে আইজিসি। এটি হবে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর সর্বনিম্ন মজুদ।
আইজিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এ বছর গমের গড় উৎপাদন কমেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গমের মজুদ কমে ১ কোটি ৫৮ লাখ এবং কানাডায় ৩৫ লাখ টনে নামতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে রেকর্ড উচ্চতায় বেড়েছে গমের ব্যবহার। মজুদ কমার পেছনে এ বিষয়টিকেও দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও আইজিসি গত মাসের তুলনায় গমের ব্যবহার পূর্বাভাস কমিয়েছে। এর পরও গত বছরের তুলনায় খাদ্যশস্যটির ব্যবহার ৯০ লাখ টন করে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১-২২ মৌসুমে গমের বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৭৮ কোটি ২০ লাখ টনে। গত দুই বছরের তুলনায় ব্যবহার বাড়বে ৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়া সত্ত্বেও খাদ্যপণ্য হিসেবে শস্যটির ব্যবহার থাকবে চাঙ্গা। গত বছরের তুলনায় ব্যবহার ২ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। পশুখাদ্য হিসেবে শস্যটির ব্যবহার ৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ কোটি ৪০ লাখ টনে উন্নীত হবে। যদিও গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের পরিমাণ কমানো হয়েছে।
আইজিসির প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে গমের বৈশ্বিক বাণিজ্য ১৪ লাখ টন করে বাড়তে পারে। বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। বাণিজ্য বৃদ্ধিতেও ইরানের ভূমিকা থাকবে বেশি। উৎপাদনে বিপর্যয় নামায় চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি। মাসভিত্তিতে ১৮ লাখ টন করে বেড়ে আমদানি ৬৮ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এটি হবে ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর সর্বোচ্চ আমদানি।
এক মাসের ব্যবধানে আইজিসির খাদ্যশস্য ও তেলবীজ মূল্যসূচক ১ শতাংশ করে বেড়েছে। গম, ভুট্টা ও যবের দাম সমানতালে বাড়লেও এতে ভারসাম্য এনেছে নিম্নমুখী সয়াবিন ও চালের বাজার।



