আগামী বছর সংকুচিত হতে পারে ভারতের চাল রফতানি
২০২১-২২ মৌসুমে ভারতের চাল উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে ছবি: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন
চাল রফতানিতে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ ভারত। চলতি বছর কৃষিপণ্যটির রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী বছর রফতানিতে মন্দাভাব দেখা দিতে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বিশ্বের শীর্ষ চাল উৎপাদক দেশগুলোয় চলতি বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন বাড়বে প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে কমবে আমদানির ব্যবধান। এ কারণে চলতি বছরের তুলনায় চাল রফতানির পরিমাণ কমে আসবে।
ভারতের রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বি ভি কৃষ্ণ রাও বলেন, বেশির ভাগ চাল উৎপাদনসমৃদ্ধ দেশ মহামারীর দুর্দশা কাটিয়ে উঠেছে। খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবও কমছে। উন্নয়ন ঘটছে অবকাঠামো খাতে। এসবের মানে হলো, ভারতীয় চালের ওপর দেশগুলোর নির্ভরতা কমে আসবে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে চালের বৈশ্বিক উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখিতার পূর্বাভাস মিলেছে। বিপরীতে ভারতের চাল রফতানি মন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাও আরো বলেন, কভিড-১৯-এর নতুন ধরনের সংক্রমণ ভিয়েতনামের কৃষি খাতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। দেরিতে শুরু হয় ধান আবাদ। কিন্তু দেশটি দক্ষতার সঙ্গে সংক্রমণ প্রবাহ মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে। ধীরে ধীরে বেড়েছে আবাদ। দেখা দিয়েছে উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
উৎপাদক দেশগুলোয় নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। এটি ভারতীয় চালের দামেও প্রভাব ফেলেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি টন রফতানিযোগ্য চালের দাম ৩৬৪-৩৬৯ ডলার থেকে ৩৫৯-৩৬৪ ডলারে নেমেছে।
রফতানিকারকরা জানান, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নন-বাসমতি চালের রফতানি ক্রয়াদেশ কমে প্রায় পাঁচ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। গত মাসে ১৫ লাখ টনের ক্রয়াদেশ ছিল।
রাও বলেন, চলতি বছর ভারতের নন-বাসমতি চাল রফতানি ১ কোটি ৪০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ওই বছর কভিডজনিত বিধিনিষেধের কারণে রফতানিতে জটিলতা দেখা দেয়।
চলতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ক্রয়াদেশ বাড়ায় চালানের পরিমাণও বাড়বে। কিন্তু উচ্চ জাহাজীকরণ ব্যয় এবং কন্টেইনারের দুষ্প্রাপ্যতা নন-বাসমতি চাল রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে থাইল্যান্ডে চাল উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারে। গত দুই বছর মারাত্মক খরার কারণে দেশটির উৎপাদন চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবে এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে থাইল্যান্ডের চাল উৎপাদন ২ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছবে।
একইভাবে খরা ও বন্যা সত্ত্বেও কম্বোডিয়ার কিছু অংশে চাল উৎপাদন বাড়তে পারে। ইউএসডিএ বলছে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯৬ লাখ ১০ হাজার টন। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টন।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক প্রাক্কলনে বলা হয়, ২০২১-২২ মৌসুমে ভারতের খরিপ চাল উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১০ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টনে। এটি গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইন কাউন্সিল (আইজিসি) এক পূর্বাভাসে জানায়, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে চাল উৎপাদন ৫১ কোটি ২০ লাখ থেকে বেড়ে ৫১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছবে। চালের বৈশ্বিক বাণিজ্য দাঁড়াবে ৪ কোটি ৮০ লাখ টনে। ব্যবহার ৫১ কোটি টনে পৌঁছতে পারে।



