১ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা ১ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মানুষের আয় বৃদ্ধিতে সেচযোগ্য কৃষি ও মত্স্য উৎপাদন বাড়াতে ১২ কোটি ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৩২ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমির সেচ নিষ্কাশন পরিষেবায় সহায়তা করবে, যা বন্যা থেকে ফসলের ক্ষতি ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনবে।
এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে যথাক্রমে ড্যান্ডান চেন চুক্তিতে সই করেন। ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পটি বন্যা ব্যবস্থাপনা, নিষ্কাশন ও সেচের অবকাঠামো আধুনিকীকরণের মাধ্যমে জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পটি জলবায়ুু সহনীয় ও উন্নত সেচ এবং বন্যা ব্যবস্থাপনায় নেয়া হয়েছে। এটি বন্যা থেকে ফসলের ক্ষতি ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনবে। এছাড়া প্রকল্পটি পুনর্বাসনের জন্য দরিদ্র এবং জলবায়ুু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১৯টি বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ ও নিষ্কাশন প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর আওতায় এক লাখ কৃষককে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ এবং ফসল কাটার পর ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রকল্পটি দেশীয় প্রজাতির সংরক্ষণ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে সহায়তা করবে। এটি কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা স্থাপন ও স্থানীয় বাজারের উন্নতির মাধ্যমে ধান এবং মাছ ও চিংড়ি চাষে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এতে মাছের উৎপাদন প্রায় ৩৭ শতাংশ, সবজির ১০ শতাংশ ও চালের উৎপাদন সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়বে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন বলেন, বাংলাদেশের সাফল্য কৃষি খাতে ভালোভাবে প্রোথিত। জনসংখ্যার আধিক্য ও সীমিত আবাদি জমি সত্ত্বেও বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন প্রবৃদ্ধি বড় অর্জন। কিন্তু জলবায়ুু পরিবর্তন ও বর্ধিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ হুমকি মোকাবেলায় নেয়া প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উন্নত বন্যা ব্যবস্থাপনা, সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফসল এবং মত্স্য রক্ষা করে বাংলাদেশকে খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। এতে বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণে ও বর্ষা-পরবর্তী পানির ঘাটতির ওপর জোর দেয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) থেকে এ ঋণ নেয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৫ বছর মেয়াদে এ ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তম চলমান আইডিএ কর্মসূচি রয়েছে।


