হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে এক্সক্যাভেটর আমদানি
দেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য ভালো চাহিদা থাকায় প্রথমবারের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে এক্সক্যাভেটর মেশিন আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এতে বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়ে, বন্দর দিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৯টি এক্সক্যাভেটর (ভেপু মেশিন) আমদানি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হয়েছে ছয়টি এক্সক্যাভেটর। মার্চে ১৬টি এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১৩টি এক্সক্যাভেটর আমদানি হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৫৪টি এক্সক্যাভেটর আমদানি হয়েছে হিলি স্থলবন্দর ব্যবহার করে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক থেকে শুরু করে বড় বড় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের সময় ভিত খনন, পুকুর খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এসব এক্সক্যাভেটরের ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বন্দর দিয়ে ভারত থেকে এসব এক্সক্যাভেটর আমদানি করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রতিটি এক্সক্যাভেটর মেশিন ভারত থেকে দেশে ৫৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে ৬৩ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে, যা একই মূল্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন সম্পূর্ণ করে ছাড় দিচ্ছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, বন্দর দিয়ে সম্প্রতি ভারত থেকে এক্সক্যাভেটর আমদানি শুরু হয়েছে। এসব মেশিন দুভাবে আমদানি করা হচ্ছে, কিছু ইন্ডাস্ট্রিয়ালভাবে আর কিছু বাণিজ্যিকভাবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল হিসেবে আমদানি করা এক্সক্যাভেটর আমদানিতে ১ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে। আর বাণিজ্যিকভাবে এক্সক্যাভেটের আমদানিতে ১১ ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে। নতুন এ পণ্য আমদানির ফলে বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা, সেটি অর্জনে ভালো ভূমিকা রাখছে। আমরা চাচ্ছি বন্দর দিয়ে অনুমোদন থাকা সব ধরনের পণ্য আমদানি হোক, সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের কাস্টমসের নিয়মের মধ্যে থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। একই সঙ্গে দ্রুত আমদানীকৃত পণ্য পরীক্ষণ শুল্কায়ন করে তা ছাড় দেয়া হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে অন্যান্য পণ্যের আমদানি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ভারত থেকে দেশে এক্সক্যাভেটর আমদানি হচ্ছে। নতুন এ পণ্য আমদানির ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় আগের তুলনায় বেড়েছে।


