নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে
স্বদেশ লাইফের চেয়ারম্যানসহ ১২ পরিচালককে অপসারণ
জিনান মাহমুদ :
বিমা আইন লঙ্ঘন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ ১২ পরিচালককে অপসারণ করেছে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।
আজ বৃহস্পতিবার আইডিআরএ-র আইন শাখার পরিচালক মোহা: আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক নির্দেশনায় এ অপসারণ আদেশ জারি করা হয়।
এ বিষয়ে আইডিআরএ’র পরিচালক ও মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলম অর্থবাংলাকে বলেন, কোম্পানির স্থায়ী আমানতের বিপরীতে নেয়া ঋণের অর্থ আত্মসাৎ করায় পরিচালনা পর্ষদের ১২ জনকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া হয়নি।
এখন স্বদেশ লাইফ পরিচালনায় নতুনভাবে বোর্ড গঠন করতে হবে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৭। এর মধ্যে ১২ পরিচালককে অপসারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। এক্ষেত্রে বীমা কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদে ৭ জন পরিচালক বহাল রয়েছেন।
অপসারণ হওয়া সদস্যরা হলেন- স্বদেশ লাইফের পরিচালক ও চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান, পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মো: শহিদুল আহসান, পরিচালক নুরুল আলম চৌধুরী, পরিচালক মো: বাহারুল আহসান, পরিচালক মারজানুর রহমান, পরিচালক ফারাহ আহসান, পরিচালক এ বি এম আব্দুল মান্নান, পরিচালক শাসসুন নাহার রহমান, পরিচালক মো: ফিরোজুল আহসান, পরিচালক মো: কামরুল আহসান, পরিচালক মো: মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিচালক মদিনা তুন নাহার।
আইডিআরএ’র চিঠিতে বলা হয়, স্বদেশ ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা পদে থাকা অবস্থায় কোম্পানি ‘বীমা আইন ২০১০’-এর ধারা ২১ মোতাবেক কোম্পানির পেইড-আপ ক্যাপিটালের বিপরীতে রাখা ১৩ কোট ৫ লাখ টাকা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে এনআরবিসি ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে। ঋণ হিসেবে উত্তোলিত টাকা কোম্পানির সংশ্লিষ্ট সময়ের স্থিতিপত্রে প্রদর্শন করা হয়নি বিধায় উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এরআগে, গত ৪ ডিসেম্বর ঋণ গ্রহণ করে বীমা আইন লঙ্ঘন ও আত্মসাৎ করায় বীমা আইন ২০১০ এর ৫০ (১) ধারা অনুযায়ী কেন পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হবে না- তার কারণ দর্শানোর জন্য গত ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় আইডিআরএর।
নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও এসব পরিচালক কারণ দর্শানোর কোনো জবাব দাখিল করেনি অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ গ্রহণ করেনি। এ অবস্থায়, ‘বীমা আইন ২০১০’-এর ৫০(১) ধারায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদ হতে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


