down of head

স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে বিএটিবি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-এ ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ পদে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণে তারা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএটিবি ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৩০০ শ্রমিক অংশ নেন।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

পরে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এরপর সেখানে থেকে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ে যান।

মানববন্ধনে ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, ২০১০ সাল থেকে ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফরা বিএটিবিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আসছেন। তামাক চাষি নির্বাচন, চাষিদের সঙ্গে চুক্তি, বীজ বিতরণ, তামাক চাষ ও পরিচর্যা, সার-কীটনাশক বিতরণ, ঋণ বিতরণ, তামাক সংগ্রহ, কিউরিং, গ্রেডিং, বেল প্রস্তুত, পরিবহন, টিপি ইস্যু এবং কোম্পানির গোডাউনে তামাক পৌঁছে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে তারা যুক্ত বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সারাবছর বিএটিবিতে স্থায়ী ধরনের কাজ করার পরও আমাদের সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় শ্রম আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি শ্রমিকরা চাকরির নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য মুনাফার অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামিউল ইসলাম বলেন, ফিল্ড টেকনিশিয়ানসহ যেসব পদে আমরা কাজ করছি, সেখানে আগে কোম্পানির স্থায়ী জনবল নিয়োজিত ছিল। পরে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে এসব পদকে ঠিকাদারি বা আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

তার দাবি, গত ১৬ বছর ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য বাৎসরিক ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (ডব্লিউপিপিএফ) এবং চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

সামিউল ইসলাম আরও বলেন, দাবি বাস্তবায়নের জন্য গত ৭ জুন বিএটিবির বিভিন্ন রিজিওনের রিজিওনাল ম্যানেজারদের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। একই দাবিতে ১৮ জুন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও আবেদন দেওয়া হয়। তবে এখনো দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে গত ২১ জুলাই আল্লারদগা লিফ রিজিওন এবং ২২ জুলাই রংপুর লিফ রিজিওনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়। শ্রমিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ আগস্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়।

ইউনিয়নের দাবি, ওই শুনানিতে বিএটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ‘আইনে সুযোগ থাকলে শ্রমিকদের স্থায়ী করা হবে’ বলে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন বলে দাবি করেন তারা।

তবে পরবর্তীতে দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানিমূলক বদলি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন নেতারা।

শ্রমিকরা তাদের চার দফা দাবিতে ফিল্ড টেকনিশিয়ান পদকে বিএটিবির স্থায়ী ও মূল কাজের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি, দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ফিল্ড টেকনিশিয়ানদের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ, শ্রম আইন ও শ্রম বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিকার এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত হস্তক্ষেপও দাবি করেছেন তারা।

কর্মসূচিতে দেশের আটটি লিফ রিজিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিক ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

সম্পর্কিত খবর