সরকারি অচলাবস্থার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল হিলে আংশিক শাটডাউনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
ভোটের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শাটডাউন হলে আরো কর্মী ছাঁটাই করা হবে এবং সেগুলো হবে মূলত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে থেকে। এ মন্তব্যকে অনেকেই ফেডারেল কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বলে দেখছেন।
মার্কিন সিনেটে বাজেট মঞ্জুরির প্রস্তাব পাস না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ফের সরকারি অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউনের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতের সময়সীমা পার হওয়ার আগেই অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে আনা বিলটি মার্কিন সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। এতে বুধবার থেকে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল কর্মীদের আরো ছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
সিনেটে বিলটির পক্ষে ৫৫টি এবং বিপক্ষে ৪৫টি ভোট পড়ে, যা আইনটি পাস করানোর জন্য দরকারি ৬০ ভোটের চেয়ে কম। এ ব্যর্থতার ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো অপরিহার্য কাজগুলো ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সব বিভাগ বুধবার থেকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হবে। এর ফলে বিমান চলাচল থেকে শুরু করে প্রতি মাসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশ—সবকিছুই ব্যাহত হতে পারে।
রিপাবলিকান সিনেট নেতা জন থুন জানিয়েছেন, সিনেট বুধবার আবার প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির চেষ্টা করবে।
ভোটের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শাটডাউন হলে আরো কর্মী ছাঁটাই করা হবে এবং সেগুলো হবে মূলত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে থেকে। এ মন্তব্যকে অনেকেই ফেডারেল কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বলে দেখছেন।
এ সপ্তাহেই প্রায় ১,৫০,০০০ কর্মী অবসরে যাচ্ছেন বা চাকরি ছাড়ছেন— যা গত ৮০ বছরে সর্বোচ্চ। এর বাইরে হাজার হাজার কর্মীকে এরইমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিভেদ চরমে ওঠায় শেষ মুহূর্তে সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মূল বিরোধ এখন স্বাস্থ্যখাত ঘিরে। ডেমোক্র্যাটরা চান বাজেট পাশের সঙ্গে সঙ্গেই ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর (ওবামা কেয়ার) ভর্তুকি স্থায়ীভাবে নিশ্চিত হোক। অন্যথায় বছরের শেষে ভর্তুকি শেষ হয়ে যাবে এবং প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যখরচ বেড়ে যাবে। এর বড় প্রভাব পড়বে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলোতে— যেমন ফ্লোরিডা ও টেক্সাস।
অন্যদিকে রিপাবলিকানরা বলছে, বাজেটকে জিম্মি করে স্বাস্থ্য ভর্তুকি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।
শাটডাউন হলে তা কতদিন চলবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত। ইতিহাস বলছে, ১৯৮১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫ বার শাটডাউন হয়েছে, বেশিরভাগই স্বল্পমেয়াদী। তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮-১৯ সালের ৩৫ দিনের শাটডাউন ছিল ইতিহাসে দীর্ঘতম।
এবার যদি সমাধান না হয়, তবে সেনা, সীমান্তরক্ষীসহ জরুরি কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করবেন। কিন্তু সাধারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ক্ষুদ্র ব্যবসায় ঋণ বিতরণ, পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যাবে।
সর্বশেষ, দু’টি ফেডারেল কর্মী ইউনিয়ন আদালতে মামলা করেছে যাতে ছাঁটাই বন্ধ করা যায়। তবে এর আগের অভিজ্ঞতা বলছে, ট্রাম্প চাইলে বরখাস্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।


