শেয়ারবাজারে প্রাণ ফিরেছে, বিনিয়োগকারীর চোখে স্বস্তির ছাপ
টানা দরপতনের ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার।
(২০ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকে বড় উত্থান হয়েছে, বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম। বাজারে সক্রিয়তা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের, যার ছাপ পড়েছে দাম বাড়ার প্রবণতা ও সূচকের চলমান উত্থানে।
এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। শুরু থেকেই সূচকে দেখা যায় ঊর্ধ্বমুখিতা, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। মূলত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র ও টেলিকম খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে বড় উত্থান বাজারে গতি এনেছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, রোববার বাজারটিতে ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৪৬টির এবং ৭২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। তালিকাভুক্ত ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টির শেয়ারদর বেড়েছে। টেলিকম খাতের তিনটি কোম্পানির সবগুলোরই দাম বেড়েছে। বস্ত্র খাতেও ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৮টি।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬১.০১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,১৯৪.৩৬ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১৭.৩৯ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১,১৩৭.৪০ পয়েন্টে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ৪২.৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৭৮.৮৭ পয়েন্টে।
তবে সূচক বড় উত্থান দেখালেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমেছে। দিন শেষে বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭৮৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস ৭০০ কোটির বেশি লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের, কোম্পানিটির মোট লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সি পার্ল বিচ রিসোর্টের লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার।
শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী কোম্পানির তালিকায় আরও রয়েছে: রেনেটা পিএলসি, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, একমি পেস্টিসাইড এবং লাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৮৪টির দাম কমেছে এবং ৩৭টির অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের (১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ) কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৩৮টির কমেছে এবং ১৪টির ছিল অপরিবর্তিত।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানো ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে ৫২টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ২৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৬টির মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে, ১৫টির কমেছে এবং ১৭টির অপরিবর্তিত ছিল।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দেখা গেছে মূল্যসূচকের বড় উত্থান। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৪৬.৫৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিন সিএসইতে ২২৪টি কোম্পানির মধ্যে ১২৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৭৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ, ভালো কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন, এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা প্রত্যাশা বাজারে আস্থার পুনঃস্থাপন ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দামে গতি ফিরলে সূচকেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
শেয়ারবাজারে এই ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


