down of head

শাহনাজকে দলবেঁধে ধর্ষণ, ঘটনা ফাঁস করতে চাওয়ায় ছয় টুকরো

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফার্মেসি থেকে গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন জোৎস্নার ছয় টুকরো করা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, হত্যার আগে ফার্মেসি মালিক ও তার পাশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে ওই নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের কথা ফাঁস করে দিতে চাইলে তাকে হত্যা করে ছয় টুকরো করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- জগন্নাথপুরের অভি মেডিকেল হলের মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ, কিশোরগঞ্জের ইটনার অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের অসীত গোপ। রাজধানীর ভাটারার নুরের চালা এলাকা থেকে জিতেশকে এবং জগন্নাথপুর পৌর এলাকা থেকে অনজিৎ ও অসীতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শাহনাজ জগন্নাথপুরের নারকেলতলা গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী ছরকু মিয়ার স্ত্রী। লাশ উদ্ধারের দিনই জিতেশ চন্দ্র গোপের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন তার ভাই হেলাল আহমদ।

গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, ২০১৩ সাল থেকে জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় নিজেদের বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন শাহনাজ। তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদিপ্রবাসী। পরিবারের সব সদস্যের ওষুধ জিতেশের ফার্মেসি থেকে কিনতেন তিনি। সেই সুবাদে জিতেশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী কিছুদিন ধরে গোপনীয় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এজন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে তাকে ফার্মেসির ভেতরে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। ভিড় কমলে তার সঙ্গে কথা বলে ওষুধ দেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

এর মধ্যে জিতেশ তার বন্ধু মুদি দোকানদার অনজিৎ ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীতকে ফার্মেসিতে অপেক্ষায় রাখা শাহনাজের বিষয়ে বললে তারা তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শাহনাজকে চিকিৎসার কথা বলে জিতেশ ঘুমের ওষুধ দেন। ওষুধ খাওয়ার পর শাহনাজ সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। তাকে ফার্মেসির ভেতর রেখেই তালা দিয়ে চলে যান জিতেশ। সব দোকান বন্ধ হলে এবং রাত গভীর হওয়ার পর জিতেশরা পুনরায় তালাবদ্ধ ফার্মেসি খুলে ভেতরে এনার্জি ড্রিংকস পান করেন। পরে তারা তাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের বিষয়টি শাহনাজ প্রকাশ করার কথা বললে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জিতেশরা। তারা শাহনাজের পরনের ওড়না গলায় পেঁচিয়ে এবং বিশ্রামকক্ষে থাকা বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে হত্যা করে। পরে লাশটি ধারাল ছুরি দিয়ে মাথা, দুই হাত, দুই পা এবং বুক-পেটসহ ছয় টুকরা করে। দোকানে থাকা ওষুধের কার্টুন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে ফার্মেসি তালা দিয়ে চলে যায় তারা।

সিআইডি জানায়, জিতেশদের পরিকল্পনা ছিল সুবিধাজনক সময়ে শাহনাজের লাশের খণ্ডিত অংশগুলো মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় ও লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেননি।

সম্পর্কিত খবর