রফতানি পণ্য নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা

গণপরিবহনে নতুন ভাড়া কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে পরিবহন ধর্মঘট। ডিজেল-কেরোসিনের দাম বাড়ার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট ডাকে পরিবহন মালিকরা। তবে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিকরা। ফলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা না কাটায় গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে আটকা পড়েছে ৯ হাজার ৭৫০টি রফতানিতব্য পণ্যের কনটেইনার। এসব কনটেইনারে থাকা পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠিয়ে জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুশ্চিন্তা বাড়ছে উদ্যোক্তাদের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ধর্মঘটে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ধর্মঘটের তৃতীয় দিন গতকাল সকালেও চট্টগ্রামের বেসরকারি ডিপো থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে রফতানি পণ্য পরিবহন করা যায়নি। সময়সূচি অনুযায়ী গতকাল তিনটি জাহাজ বন্দর ছাড়ার কথা থাকলেও রফতানি পণ্য না পেয়ে বন্দর ছাড়েনি। এদিকে আজ সব মিলিয়ে সাতটি কনটেইনার জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর হতে আমদানি হওয়া পণ্যের খালাস কার্যক্রম বিশ্লেষণে দেখা যায়, রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরোপুরি অচলাবস্থা বিরাজ করছে আমদানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে। গতকাল প্রায় এক হাজার কনটেইনার পণ্য খালাসের চাহিদাপত্র (অ্যাসাইনমেন্ট) দিয়েছেন আমদানিকারকরা। কিন্তু পণ্যবাহী গাড়ি চলতে না দেয়ায় কোনো পণ্যই খালাস করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ধর্মঘটের প্রথম দিন শুক্রবার ১ হাজার ১৬৬ কনটেইনার পণ্য খালাসের চাহিদাপত্রের মধ্যে মাত্র ৩২০ কনটেইনার পণ্য খালাস করতে পেরেছিলেন আমদানিকারকরা। তবে পরের দিন শনিবার থেকে পণ্য খালাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। সবমিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জমেছে ৩৮ হাজার ৬০০টি। পাশাপাশি বেসরকারি অফডকগুলোতে আটকে আছে ৮ হাজার ৪০০ আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন থেকে কোনো কনটেইনার যেমন খালাস হয়নি, তেমনি ডিপো থেকে রফতানি পণ্যবাহী একটি কনটেইনারও বন্দরে আনা যায়নি।’

পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি ও ওয়েল গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মঘটের কারণে কারখানা থেকে যেমন ডিপোতে রফতানি পণ্য আনা যাচ্ছে না, তেমনি ডিপোতে আটকে থাকা পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তুলে দেয়া যাচ্ছে না। আজ (রোববার) পর্যন্ত আমরা কোনো শিপমেন্টই করতে পারিনি। এর প্রভাব এরই মধ্যে পড়ে গেছে। আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে অবহিত করেছি যে, দ্রুত এর সমাধান না হলে শিপমেন্ট যেটা মিসিং হচ্ছে এর বড় খেসারত দিতে হবে।’

রফতানি পণ্য তৈরির পর কারখানা থেকে সরাসরি কনটেইনার ডিপোগুলোতে নেয়া হয়। ডিপোতে আনার পর কাভার্ড ভ্যান থেকে পণ্য নামিয়ে শেডে রাখা হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বন্দরে অপেক্ষমাণ নির্ধারিত জাহাজে তুলে দেয়া হয় এসব পণ্যবাহী কনটেইনার। ধর্মঘটের কারণে কারখানা থেকে ডিপোগুলোতে রফতানি পণ্য আনা যাচ্ছে না। আবার ডিপোতে আটকে থাকা পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নিয়ে জাহাজে তুলে দেয়া যাচ্ছে না।

বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘ডিপোতে রফতানি পণ্যের স্তূপ যত বাড়বে, পণ্য রফতানি প্রক্রিয়ায়ও দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। ফলে উৎপাদন থেকে শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

গত বুধবার রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এরপর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার অঘোষিতভাবে সারা দেশে বাস, ট্রাক ও অন্য পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন মালিকরা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে ধর্মঘট শুরু করে পরিবহন সংগঠনগুলো। গতকাল যাত্রীবাহী পরিবহনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এলেও পণ্য পরিবহনের অচলাবস্থা কাটেনি। কারণ পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়াসংক্রান্ত বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নেয় না। কর্মসূচির প্রথম ও দ্বিতীয় দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে কিছুটা কম প্রভাব পড়ে। যদিও গতকাল থেকে সংকট আরো প্রকট হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর