যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহী ১৩ দেশের ২০ কোম্পানি
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২১’ থেকে বড় বিনিয়োগ প্রাপ্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনে ১৩টি দেশের ২০টি কোম্পানি যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ২৬টি পণ্য আমদানির বিষয়ে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক এ বাণিজ্য সম্মেলনের আউটকাম ডিক্লারেশন-বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও সহসভাপতি মনোয়ার হোসেনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, সম্মেলন চলাকালীন আয়োজিত বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সেশনে বিশ্বের ৩৮টি দেশের ৫৫২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। ৩৬৯টি বিটুবিতে অংশগ্রহণ করেন তারা। যেখানে ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনার আশ্বাস এসেছে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অবকাঠমো, ওষুধ, বেবি বোটল, ছাতা, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতে পাঁচটি দেশের (চীন, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ভারত) উদ্যোক্তারা সরাসরি বিনিয়োগের বিষয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডেইরি প্রডাক্টস, চামড়া, তৈরি পোশাক, এফএমসিজি, পাট, অটোমোবাইল প্রভৃতি খাতেও বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।
রিজওয়ান রহমান বলেন, এ সম্মেলন উপলক্ষে বিষয়ভিত্তিক ছয়টি ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়; যেখানে অংশগ্রহণকারী আলোচকরা ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে নীতিমালার সংস্কার, সহায়ক নতুন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদান, এফটিও এবং পিটিএ স্বাক্ষর, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার প্রভৃতি বিষয়ের ওপর জোরারোপ করেন তারা।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আরো বলেন, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক প্রভৃতি অঞ্চল থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রফতানি সম্প্রসারণের প্রতি আরো বেশি হারে মনোযোগী হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি রফতানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুততম সময়ে এফটিএ ও পিটিএ স্বাক্ষরের জন্য উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বারের যৌথ উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ‘বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন ২০২১’ আয়োজন করা হয়, যা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রয়াসেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে কভিড মহামারী সময়েও বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়টি সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
বাণিজ্য সচিব তার বক্তব্যে বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। তবে এফটিএ স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে উভয় দেশের শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই বিদ্যমান শুল্কহার কমানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্য সচিব। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এতে আমাদের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস হতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পায়নকে সহায়তার বিষয়েও সরকারের সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরো উন্নতকরণের লক্ষ্যে সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি সেবা পেতে দেশবাসীর কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব হবে। রফতানিমুখী পণ্যের সম্প্রসারণে দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া খাতের জন্য সরকার ঘোষিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অন্তত একটিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের জন্য বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া তৈরি পোশাক খাতের ন্যায় সম্ভাবনাময় রফতানিমুখী শিল্পগুলোয় বন্ড সুবিধা দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন বাণিজ্য সচিব।
উল্লেখ্য, মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার যৌথভাবে আন্তর্জাতিক এ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করে। গত ২৬ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হয় গতকাল। গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


