মালদ্বীপকে আইএমএফ
মুদ্রা ছাপানো বন্ধ করো, না হলে শ্রীলংকার মতো পরিণতি হবে
মালদ্বীপকে স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ছাপানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি মনে করছে, রুফিয়ার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ব্যালান্স অব পেমেন্টের ঘাটতি পূরণের জন্যও মুদ্রা ছাপিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থেকে মালদ্বীপের বের হয়ে আসা প্রয়োজন। অন্যথায় মালদ্বীপও শ্রীলংকার মতো বিপদে পড়তে পারে।
মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটি (এমএমএ) প্রধানত বিনিময় হারের ওপরেই বেশি নির্ভরশীল। তবে দেশটির সরকার মুদ্রা ছাপানো অব্যাহত রাখলে বা আগ্রাসীভাবে খোলাবাজারকেন্দ্রিক কার্যক্রম চালিয়ে গেলে মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এমএমএর পদক্ষেপগুলো হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছে আইএমএফ।
বার্ষিক এক আলোচনা শেষে আইএমএফের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানিতে মূল্যের চাপ কমাতে এমএমএর সরকারকে মুদ্রা সরবরাহ ক্রমান্বয়ে কমাতে কমাতে বন্ধ করে দিতে হবে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে মুদ্রানীতিকে আরো কঠোর করার বিষয়ে এমএমএকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
মালদ্বীপকে বিনিময় হার ধরে রাখার পরামর্শ দিলেও শ্রীলংকাকে মুদ্রার বিনিময় হার অবমূল্যায়নের সুপারিশ করেছে আইএমএফ। এমএমএর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান মুদ্রানীতি কাঠামোর অধীনে মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার সংরক্ষণের একটি লক্ষ্য হলো মূল্য স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সংরক্ষণ হলো পরিচালনগত লক্ষ্য। তবে এর সার্বিক লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংগতিপূর্ণভাবে স্থানীয় মুদ্রা সরবরাহ বজায় রাখা।
কভিডের প্রাদুর্ভাবজনিত দুর্বিপাকে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০২০ সালে মালদ্বীপের জিডিপি সংকুচিত হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু এর মধ্যে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১৫ দশমিক ৪ রুফিয়া ধরে রেখেছিল মালদ্বীপ। গত বছর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় মালদ্বীপের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাড়ে ৯৮ কোটি থেকে কমে ৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে। চলতি বছর তা সাড়ে ৬৯ কোটি ডলারে নামতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির পর মুদ্রা ছাপানোর মাধ্যমে সুদহার কমিয়ে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছে এমএমএ। এর মাধ্যমে বিনিময় হারের পরিবর্তে এমএমএ এখন রিজার্ভের মুদ্রাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করেছে, যা দেশটির স্থানীয় ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি রিজার্ভের পরিমাণও কমিয়ে আনছে।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে স্থানীয় ঋণের প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ, যেখানে গত বছর এ হার ছিল ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
অন্যদিকে শ্রীলংকায় স্থানীয় ঋণের প্রবাহ বেড়ে মূল্যস্ফীতি দেখা দিলে রুপির বিনিময় হার অবমূল্যায়নকে ধরা হয় বাণিজ্য খাতের ‘প্রথম সুরক্ষা রেখা’ হিসেবে। যদিও দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিকনেক্সট বলছে, শ্রীলংকায় ২০১৮ ও ২০২০ সালে এভাবে বাণিজ্য খাতের সুরক্ষা দেয়ার প্রয়াস নিতে গিয়েই দেশটিকে দেউলিয়াত্বের দিকে ঠেলে দেয়া হয়। বর্তমানে মুদ্রার ক্রমাগত অবমূল্যায়ন হতে হতে শ্রীলংকার মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এখন প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছে।
মালদ্বীপে জিডিপির বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয় ও অনুদানের হার গত বছর ছিল ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর তা ২৮ দশমিক ৯ এবং আগামী বছর ২৯ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে সরকারি ব্যয় বাড়ায় চলতি বছর দেশটিতে জিডিপির বিপরীতে বাজেট ঘাটতির হার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া অনুদান ব্যতীত সরকারের রাজস্ব আয় এবার জিডিপির ১৫ দশমিক ৪ থেকে ১১ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে। তবে এখনো মালদ্বীপ ঋণ নিয়ে বড় ধরনের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে মনে করছে আইএমএফ।


