মব সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সেনাবাহিনীর
সব ধরনের মব সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করছে এবং জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা আনয়নে সব ধরনের মব সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।
জননিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সর্বদা বদ্ধপরিকর। ফেসবুকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড পেজে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, গত রাতে উদ্ভূত ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ সদস্যও আহত হয়েছেন।
সেনাবাহিনী জানায়, গতকাল রাত আনুমানিক ৮টায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেড়ে গেলে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার শুরুতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য ও দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার অনুরোধ জানায়।
তবে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু নেতাকর্মী তা উপেক্ষা করে মব ভায়োলেন্সের মাধ্যমে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তারা সংগঠিতভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায় এবং আনুমানিক রাত ৯টার দিকে মশাল মিছিলের মাধ্যমে সহিংসতা আরো বৃদ্ধি করে। এ সময় তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। এ ছাড়া বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও তত্সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জনগণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের সব চেষ্টা তারা অগ্রাহ্য করে।
ফলস্বরূপ, জননিরাপত্তা রক্ষার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বল প্রয়োগে বাধ্য হয়।


