কঠোর হচ্ছে প্রোগ্রেসিভ লাইফ
ব্যর্থতার দায়ে সরতে হচ্ছে সোহরাওয়ারদীকে

ব্যবসায় ব্যর্থতা, গ্রুপিং, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগে ডিএমডি) মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারদীকে প্রগ্রেসিভ লাইফ থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৫তম এনআরসি সভার সদস্যরা তার কর্মদক্ষতা নিয়ে ‘অত্যন্ত অসন্তোষ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ ব্যক্ত করেছেন। তাই ইতোমধ্যে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ সোহরাওয়ারদীর কর্মঅগ্রগতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সতর্কবার্তা প্রদান করেছে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রগ্রেসিভ লাইফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ সাইদুল আমিন স্বাক্ষরিত এক দপ্তর আদেশে জানানো হয়, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, সোহরাওয়ারদী ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর কোম্পানিতে যোগদানের সময় মৌখিকভাবে বছরে ৪০ কোটি টাকার ব্যবসা করার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি ব্যবসা উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। এমনকি তিনি কোনো নতুন সংগঠন কোম্পানিতে সংযুক্ত করতে পারেননি এবং অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল বিভাগে উদ্ভাবনী কোনো পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেননি। তার বিষয়ে শিঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এই চিঠির অনুলিপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, এনআরসির চেয়ারম্যানকেও দেয়া হয়।

 

অপরদিকে প্রতিষ্ঠানের সাবেক কোম্পানি সেক্রেটারী ও ভারপ্রাপ্ত সিইও জহির উদ্দীন আর্থিকখাতের এক হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপে শহীদ সোহরাওয়ারদীর বিরুদ্ধে বেশ গুরুতর অভিযোগ তুলে কঠোর মন্তব্য প্রকাশ করেন। তিনি লিখেন, “প্রগ্রেসিভ লাইফে গ্রুপিং করে এজিএম হতে ডিএমডি (মার্কেটিং) হয় বছরে ৪০ কোটি প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম দিবে বলে, কিন্তু ৪০ টাকাও সে প্রিমিয়াম দিতে পারেনি। বরং তার এই গ্রুপিংয়ের কারনে ক্ষতির মুখে পড়েছে প্রোগ্রেসিভ লাইফ।

জহির উদ্দিন আরো লিখেন, সোহরাওয়ার্দী অনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষের ছবি ও ভোটার লিস্ট সংগ্রহ করে ভূয়া ব্যবসা দিয়ে কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং নিচ্ছে।

আকন্ঠ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দক্ষিণখানে তিন তলা বাড়ি এবং উত্তরাতে ফ্ল্যাট কিনে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তদন্ত করলে তার বিজনেস চিত্র এবং সকল অপকর্ম বেরিয়ে আসবে।”

নাম প্রকাশে একটি সূত্র দাবী করেছে যে, শহীদ সোহরাওয়ারদী ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পরেন। এতে করে তাকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তোপের মুখে পরতে হয়।

অভিযোগ উঠেছে, সোহরাওয়ারদী অপকর্ম আড়াল করতে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে গ্রুপিং করে চলমান কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পায়তারা করছেন। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের এসব কারণে তাকে কঠোর নজরদারীর মধ্যে রেখে শিঘ্রই পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ারদী বলেন, প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সময় আমাকে ব্যবসার জন্য লিখিতভাবে কোন টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয় নি। পরিচালনা পর্ষদ যা মন চায় করুক, আমাকে টার্মিনেট করা হলে চলে যাবো।

“এ বিষয় কোনো বক্তব্য নেই” এমন দাবি করে তিনি আরো জানান, তাকে যদি কোম্পানী প্রত্যাহার করে তাতেও কোনো আপত্তি থাকবে না।

উল্লেখ্য, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বর্তমানে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও সংগঠন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোম্পানির উচ্চপর্যায়ের নির্বাহীদের কর্মদক্ষতা ও ব্যবসায়িক অবদানের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয় প্রোগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ সাইদুল আমিনকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

সম্পর্কিত খবর