বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বুধবারের পর পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যায় নি। দুপক্ষ নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৩ সেন্ট বা দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৪ সেন্ট বা দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়ায়।
বুধবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ২ ডলার পর্যন্ত বেড়েছিল। উভয় বেঞ্চমার্কের দিনের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ হামলা-পাল্টা হামলা ছিল জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ। এর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে।
আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর এক নোটে বলেন, “সর্বশেষ উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাওয়ায় তেলের দামও কমেছে। সিডনি সময় বুধবার দুপুরের পর থেকে নতুন করে কোনো পাল্টাপাল্টি হামলার নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।”
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান ‘খুব বেশি দিন’ চলবে না। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সাইকামোর বলেন, “উত্তেজনা কমার এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকলে তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে পরিচালিত জাহাজ এবং জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে সরবরাহ চলাচল গত সপ্তাহের শেষের দিকের পর্যায়ে ফিরতে বেশি সময় লাগবে না।”
কেপলারের প্রাথমিক জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১৩টি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ‘নিয়ম না মানা’ জাহাজের তালিকায় আরও কয়েকটি জাহাজ যুক্ত করেছে ইরান। এসব জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তাদের জরিমানা, জব্দ বা আটকের মুখে পড়তে হতে পারে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর ওই দিনই এই জলপথ দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে বলে দাবি করেছিল ওয়াশিংটন।



