জুলাই সনদ স্বাক্ষর 
নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো আজ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা সনদে স্বাক্ষর করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষর করেন।

 

এছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ আরও বিভিন্ন দলের নেতারাও স্বাক্ষর করেন। গতকাল শুকবার বিকাল ৫টার দিকে ঐতিহাসিক এ সনদে স্বাক্ষর করেন তারা।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা পুরোনো কথাবার্তাগুলো পালটে ফেলে নতুন কথাগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে নিয়ে এলাম। সংসদ থেকে শুরু করে সরকার পরিচালনা-অনেকগুলো বিষয়ে আমরা এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে এলাম। এই পরিবর্তন এখন আমাদের সামনের দিকে নিয়ে যাবে। আমরা সেই পথে অগ্রসর হব। আজ জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতার জগতে এলাম। আজকের দিনের মতো এ রকম ঘটনা ঘটবে আমরা চিন্তাও করতে পারিনি।

জাতি আজ এক নবজšে§র সন্ধিক্ষণে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের কারণে, বিশেষ করে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের কারণে। তিনি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটিকে সেই অভ্যুত্থানের ‘দ্বিতীয় অংশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

 

আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বক্তব্যের শুরুতেই ড. ইউনূস অভ্যুত্থানের জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন রক্ত দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে যারা আহত হয়েছেন বা কষ্টে আছেন, সেই বীর যোদ্ধাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজকের এই দিনটি সম্ভব হয়েছে এবং সারা জাতি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে জাতি পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা বাদ দিয়ে নতুন বিষয়গুলোকে জাতীয় জীবনে নিয়ে এসেছে।

 

এই পরিবর্তনের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের পরিবর্তন এবং সরকার পরিচালনার (সরকার চালানো বিষয়) সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়।’ তিনি নিশ্চিত করেন, এ পরিবর্তনের ভেতরে অনেক নতুন বিষয় এসেছে।
তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরুর সময় কতদূর ঐকমত্য হবে তা নিয়েও দ্বিধা বা সংশয়ের মধ্যেও সবার অংশগ্রহণ এবং এর মধ্য দিয়ে এক ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি আমরা।

ঐকমত্যে কমিশনে যে সৌহার্দ্যের সঙ্গে আলোচনা হলো ‘আপনারা যারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আছেন, বিভিন্ন জায়গায় আছেন, তারা দেখেছেন, টেলিভিশনে এটা প্রচার হচ্ছিল, কীভাবে তারা যার যার নীতিগুলো তুলে ধরছেন, বক্তব্যগুলো তুলে ধরেছেন। সেটা সব মানুষ শুনতে পেয়েছে। শুনতে পেয়েছে শুধু না, তারা অংশগ্রহণ করতে পেরেছে, মনে মনে অংশগ্রহণ করেছে, ঘরের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক করেছে, বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এই সনদ শুধু দেশের জন্য না ‘পুরো পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে’ মনে করছেন প্রধান উপদেষ্টা।

 

তিনি বলেন, কীভাবে ঐকমত্যে আসা হয়েছে তা তরুণদের জানাতে পাঠ্যপুস্তকে থাকবে। আজকের মতো ঐক্যের সুর নিয়ে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৬ বছর ধরে ২০০৯ সাল থেকে যে ফ্যাসিবাদী তৈরি হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে যে সাহসিকতা যে দৃঢ়তা বাংলাদেশের নাগরিকরা দেখিয়েছেন; বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সূচনা, যা এক দফা দাবিতে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী শাসককে পলায়নে বাধ্য করতে পেরেছে, সেই অর্জনের একটি স্মারক হচ্ছে এই জাতীয় সনদ। এখানে এর শেষ নয় আমরা মনে করি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আমাদের যে চেষ্টা সবার, সে চেষ্টা একদিনে সাফল্য অর্জন করবে না। একটি দলিল কেবলমাত্র সেটার নিশ্চয়তা দেবে না। আমরা আশা করি, এই যে জাতীয় দলিল তৈরি হয়েছে তার বাস্তবায়ন ঘটবে। দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন ঘটবে।’

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা।

      #আফেই

সম্পর্কিত খবর