down of head

নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট থেকে পরিত্রাণের পথে চীন

নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট থেকে পরিত্রাণের সম্ভাবনা দেখছে চীন। এরই মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি কয়লা সরবরাহে লক্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে যৌথ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চীনের উত্তোলক, রশদ সরবরাহকারী ও প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো। কয়লা সরবরাহ বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টায় প্রাথমিক সাফল্যের এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা। তারা বলছেন, চীন সম্প্রতি কয়লা উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে পণ্যটির দামও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃতিতে শীতের আগমনি সুর বেজে উঠেছে। এ সময় কনকনে ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে হিটারসহ অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। ঊর্ধ্বমুখী হবে বিদ্যুতের চাহিদা। আর চীন যেহেতু বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লানির্ভর, তাই স্বভাবতই এ সময় দেশটিতে কয়লার চাহিদা থাকবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। চাহিদা মোকাবেলায় সরবরাহ নিশ্চিত করতে পুরোদমে চেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং।

চায়না এনার্জি এক নোটে বলেছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কয়লা শিল্পকে অবশ্যই নিয়মিত উত্তোলন বাড়াতে হবে। মানসম্পন্ন কয়লা খনিগুলোকে বার্ষিক উত্তোলনের এক-চতুর্থাংশ উত্তোলনে উৎস্যহিত করা হয়েছে। আমদানির পরিমাণও বাড়ানো উচিত, যাতে ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যায়। গত ১-২২ অক্টোবর পর্যন্ত চায়না এনার্জির কয়লা উত্তোলন বেড়ে প্রায় ২৫ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ৬ হাজার ২৫ কোটি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) জানায়, কয়লার সাম্প্রতিক সরবরাহের ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ১১ কোটি টন মজুদের সম্ভাবনা দেখছে। এটি আগামী ২০ দিনের জন্য যথেষ্ট। এর মাধ্যমে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শীতে চীনের জনগণকে উষ্ণতা দেয়া সম্ভব হবে। অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা বলছেন, অক্টোবর থেকে চীনের দৈনিক কয়লা উত্তোলন ১ কোটি ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় উত্তোলন প্রায় ১১ লাখ টন বেড়েছে। বর্তমানে দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সর্বোচ্চ। পূর্ব চীনের স্যাংডং প্রদেশের কিনহংডো বন্দরের মজুদকেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ ৫০ লাখ টন অতিক্রম করেছে, যা বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির লক্ষণ।

এদিকে সরবরাহ বৃদ্ধি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নানা উদ্যোগের কারণে স্পট ও ফিউচার মার্কেটে কয়লার দাম কমেছে। চীনের ঝেংঝো কমোডিটি এক্সচেঞ্জে জানুয়ারিতে সরবরাহের জন্য সর্বাধিক লেনদেন হওয়া তাপীয় কয়লার চুক্তিমূল্য ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের দাম উঠেছে ৯২৫ দশমিক ২ ইউয়ান বা ১৪৪ ডলার ৪৮ সেন্ট পর্যন্ত।

অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে চীন রাশিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে কয়লা আমদানি বাড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকা চীনের শীর্ষ কয়লা সরবরাহকারী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। বছরের প্রথম নয় মাসে মার্কিন মুলুক থেকে কয়লা আমদানি বেড়েছে ৮৭০ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময় কানাডা থেকে আমদানি বেড়েছে ৯২ শতাংশ। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে আমদানি বৃদ্ধির হার ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে শুধু কয়লাই নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও বাড়াচ্ছে চীন। চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি) জানায়, নভেম্বরের মধ্যেই দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দিয়ে উত্তর চীনে ২০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সম্ভব হবে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

সম্পর্কিত খবর