ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা
আগের সপ্তাহে লেনদেনে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। তবে সেই ধারা ধরে রাখতে পারেনি এক্সচেঞ্জটি। গত সপ্তাহে লেনদেন আবারো নিম্নমুখী হয়েছে। লেনদেনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহ শেষে যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায়। সেই হিসাবে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বা ২ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৬ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে টাকার অংকে ডিএসইর গড় লেনদেনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইর গড় লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। যেখানে আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত সপ্তাহে গড় লেনদেন কমেছে দশমিক ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
লেনদেন ও বাজার মূলধনের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর সব সূচকই কমেছে। এর মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫৫ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৯০৬ দশমিক ৭২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহ শেষে ছিল ৭ হাজার ৬২ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে।
নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৭ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ২ হাজার ৬০১ দশমিক ২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৬৩৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট।
ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৭ দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৬২ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির, কমেছে ২৭০টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। আর লেনদেন হয়নি ৪টির।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। ১২ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। ১১ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১১ দশমিক ১ শতাংশ নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিবিধ খাত। এছাড়া পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে প্রকৌশল এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। খাত দুটোর লেনদেন ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৩ ও ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে প্রায় ২০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ২৫৯ কোটি টাকার। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে ২০ হাজার ১৯৭ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২০ হাজার ৬২৮ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। আলোচ্য সময়ে সিএসইতে মোট ৩৪০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৭টির। কমেছে ২৪০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির শেয়ারদর।



