চার দশক পর বিষাক্ত ডিডিটি মুক্ত হলো বাংলাদেশ

বিশ্বের বৃহত্তম ডিডিটি (ডাইক্লোরো ডাইফেনাইল ট্রাইক্লোরোইথেন) মজুদটি ছিল চট্টগ্রামে। কয়েক দশক ধরে মজুদ থাকা বিষাক্ত এ কীটনাশক বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করতে পাঠানো হচ্ছে ফ্রান্সে। সর্বশেষ চালানটি শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যায়।

বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম পরিচ্ছন্নতাকরণের অত্যন্ত জটিল এ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিষাক্ত এসব কীটনাশক অপসারণের মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ক্ষতিকর রোগবালাই ছড়ানোর হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা।

ডিডিটি অপসারণকাজের সমাপনী হিসেবে গত বুধবার চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ শাখা) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশা নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৫ সালে ৫০০ টন কীটনাশক আমদানি করা হয়েছিল। যদিও এসব ডিডিটি ব্যবহার না করে ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেসের (ডিজিএইচএস) মেডিকেল সাব-ডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে ডিডিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও বিষাক্ত এ রাসায়নিক অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির (জিইএফ) অর্থায়নে, বাংলাদেশ সরকার ও এফএও বাংলাদেশের সহ-অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটির পেস্টিসাইড রিস্ক রিডাকশন ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় এসব ডিডিটি অপসারণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর