ক্রেতা সংকটে পুঁজিবাজার
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান ঘটে। তবে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী দিনগুলোয় পুঁজিবাজারে অব্যাহতভাবে দরপতন হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুঁজিবাজারে টানা চার কার্যদিবস উত্থান দেখা যায়। চারদিনে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়ে ৭৮৬ পয়েন্ট।
গত কয়েক কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবারও লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার প্রায় ৩৪ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের স্থান হয়েছে দাম কমার তালিকায়। আবার দাম কমার তালিকায় থাকা শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে যতটা কমা সম্ভব, ততটাই কমেছে। এর মাধ্যমে টানা আট কার্যদিবস বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমল। আর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এখনো পর্যন্ত লেনদেন হওয়া নয় কার্যদিবসের মধ্যে আট কার্যদিবসেই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে মূল্যসূচকের বড় পতন দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের। আর ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১০৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচকের বড় পতন হলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইউসিবি ব্যাংকের ৫২ কোটি ৪৮ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ৪০ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিলÑ সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন এবং সি পার্ল বিচ রিসোর্ট।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৭টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয় ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এন এস



