কুষ্টিয়ায় একসঙ্গে জন্ম নেয়া পাঁচ নবজাতকেরই মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়ে আনন্দে আত্মহারা দম্পতি এখন শোকের সাগরে নিমজ্জিত। একে একে পাঁচ সন্তানকেই হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। ২ নভেম্বর কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একসঙ্গে চারটি মেয়ে ও একটি ছেলে-শিশু জন্ম দেন কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী সাদিয়া খাতুন।
ওজন কম হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে একে একে পাঁচ শিশুরই মৃত্যু হয়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের স্ক্যানো ওয়ার্ডে সর্বশেষ শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে জন্মের একদিন পর ৩ নভেম্বর বিভিন্ন সময়ে একে একে তিন কন্যা ও এক ছেলে শিশু মারা যায়।
শিশুগুলোর বাবা সোহেল রানা জানান, পাঁচ সন্তানের জন্মের পর খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি সেই আনন্দ এত দ্রুত, এত নিষ্ঠুরভাবে হারিয়ে যাবে। তিনি জানান, তার স্ত্রী সাদিয়া আরো বেশি শোকে মুহ্যমান। ভেঙে পড়েছেন তিনি।
সোহেল রানা একটি চায়ের দেকান চালান পান্টি বাজারে। ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাদিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। এটিই ছিল তাদের প্রথম সন্তান জন্মদান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, গর্ভধারণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে জন্ম হওয়ায় শিশুদের ওজন অনেক কম হয়। এটাই তাদের বেঁচে থাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
‘বাচ্চাগুলোর ওজন ছিল ৫০০-৬০০ গ্রাম। এত কম ওজন নিয়ে কোনো সদ্যভূমিষ্ঠের বেঁচে থাকা খুবই কঠিন’ বলে জানান ওই হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান চিকিৎসক মনোরমা সরকার। পাঁচ সদস্যের ডেলিভারি টিমে মনোরমাই নেতৃত্ব দেন।


