ওষুধ ও ব্যাংক খাতের নেতিবাচক রিটার্নের প্রভাবে সূচকে নিম্নমুখিতা
গত সপ্তাহে সার্বিকভাবে দেশের পুঁজিবাজারে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ওষুধ ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের নেতিবাচক রিটার্ন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। পুঁজিবাজারে দরপতনে যেসব শেয়ারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাদের মধ্যে এই দুই খাতের আধিক্য ছিল সবচেয়ে বেশি। সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও আগের তুলনায় কমে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যাসস্বল্পতার কারণে দেশব্যাপী বিদ্যুতের সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ, টাকার অবমূল্যায়ন ও কভিড সংক্রমণ বাড়ার মতো বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করে তুলছে। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শরিয়াহ সূচক বাদে বাকি দুই সূচক পয়েন্ট হারিয়েছে। এর মধ্যে সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বা দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ৩৭৭ পয়েন্টে। সূচকের পতনে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, গ্রামীণফোন, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের।
ডিএসইর অন্য সূচকের মধ্যে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। গত সপ্তাহ শেষে সূচকটি কমে ২ হাজার ২৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস আগের সপ্তাহের তুলনায় ১ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে গত সপ্তাহে ১ হাজার ৩৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টে।
গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। পাঁচ কার্যদিবস লেনদেনের পর সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন কিছুটা বেড়ে ৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির বাজার মূলধন বেড়েছে দশমিক ১৯ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমেছে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড়ে ৭৬২ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৭৭১ কোটি টাকা। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৮টির, কমেছে ১৬৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির বাজারদর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ৭টির।
গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল খাতটির দখলে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। ৯ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে লেনদেনের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। ৮ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। ৮ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে পরের অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ব্যাংক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে বেশির ভাগ খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন ছিল কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৮ শতাংশ। ৪ দশমিক ৭ শতাংশ রিটার্ন নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। অন্যদিকে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্নের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল চামড়া খাত। সাধারণ বীমা খাতের ১ দশমিক ৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া সিরামিক খাতে ১ শতাংশ, ব্যাংক খাতে দশমিক ৬ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে ১৮ হাজার ৭৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ৭২৮ পয়েন্টে। নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১১ হাজার ২২৭ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে ১৪১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ১৯৬ কোটি টাকা। এ সময়ে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৪৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ১৪৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।


