অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগে আমদানিকারকরা
সড়কপথের মতো রেলপথেও আমদানি পণ্য নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যশোরের বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরা। রেলপথ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ আয় করলেও পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে রেলওয়ের থেকে মিলছে না ন্যূনতম সহযোগিতা। যে কারণে আমদানিকারকদের পণ্য খালাস পোহাতে হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। স্টেশনগুলোয় কোটি কোটি টাকার পণ্য আনলোড হলেও বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা।
ভারত থেকে আমদানি পণ্যবাহী ট্রেনগুলো বেনাপোল স্টেশনে কাস্টমস-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে পণ্য খালাসের জন্য পৌঁছায় যশোর স্টেশনে। তবে সেখানে লোডিং-আনলোডিং প্লাটফর্মের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। এসব ঝামেলা এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী নওয়াপাড়া ও সিঙ্গিয়া স্টেশনে পণ্য খালাস করে থাকেন। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর সেখানেও পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। এদিকে যশোর স্টেশন থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়, প্রতিদিন ২০টি (১০ ওয়াগন) কনটেইনার খালি করতে হবে। সেটি না করা গেলে কনটেইনার প্রতি ৯০ টাকা চার্য দিতে হবে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিদিন ১০টির বেশি কনটেইনারের পণ্য খালাস সম্ভব হয় না।
স্থলপথে পণ্যজটের কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে খালাস প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বেশির ভাগ বহুজাতিক কোম্পানি রেলপথে পণ্য আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এমনকি রেলপথে পণ্য আনলে বিরাট অংকের ‘ডিটেনশন চার্জ’ এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। যানজটের কারণে পণ্যবাহী গাড়ি আটকে থাকলে এ মাশুল গুনতে হয়। কিন্তু রেলপথে এ জটের ঝামেলা নেই। ফলে কম সময়ে আমদানি পণ্য দেশে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে কার্গো চালানের ছাড়পত্র-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা রয়েছে।
আমদানি-রফতানিতে নিয়োজিত ব্যবসায়ীরা জানান, বেশির ভাগ পণ্যবাহী রেল কার্গো বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় সন্ধ্যায়। ফলে সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ থাকায় পরের দিন খালাস শুরু করতে হয়। ১২ ঘণ্টা পেরোনার পর এক্ষেত্রেও ‘ডিটেনশন চার্জ’ গুনতে হয়। এ সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমনটি করা হলে এ ব্যয় এড়াতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ব্যবসায়ীরা বেনাপোলের দ্বিতীয় লাইনটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। এটি চালু হলে আরো বেশিসংখ্যক আমদানি পণ্যবাহী ট্রেন এখানে অবস্থান করতে পারবে।
পণ্য খালাসে বেঁধে দেয়া তিনদিনের সময়সীমা বাড়িয়ে পাঁচদিন করার দাবি জানান ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মতিয়ার রহমান। এ সময় এছাড়া বিদ্যমান ডিটেনশন চার্জ কমানোর পাশাপাশি যশোর স্টেশনের লোডিং-আনলোডিং প্লাটফর্মের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিও জানান তিনি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ভারত থেকে রেলপথে ১ লাখ ২০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এ থেকে রেলওয়ের আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানি পণ্য খালাসে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা বাড়ায়নি রেল কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল স্টেশনের ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, আমাদের দ্বিতীয় লাইনটি আগামী মাসে চালু হবে বলে আশা করছি। ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা কাজ করছি।
যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খান জানান, সড়কপথে নানা দুর্ভোগের কারণে আমদানিকারকরা রেলপথে পণ্য আমদানি বাড়িয়েছেন। কিন্তু রেলে সেই অনুযায়ী কোনো সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। রেলের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে আমদানি আরো বাড়বে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।
বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান জানান, পেট্রাপোলে দীর্ঘ জটের কারণে আমদানিকারকরা রেলপথে আমদানি করছেন। এটা সবার জন্য ভালো। এজন্য রেল সুবিধাকে আরো উন্নত করতে হবে।


