শিরোনাম
icon গোলাপি আভায় জয়া আহসান icon জাপানে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত icon রোমানিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে তারেক রহমানের অভিনন্দন icon বিমানের রিয়াদ-দাম্মাম ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ icon ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ২,২৪৯ icon ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন icon গোলাপি জার্সিতে পাকিস্তান icon কম দামে এলএনজি কিনবে সরকার icon সূচকের পতন, লেনদেন ৪৩০ কোটি টাকা icon গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা icon ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon আফতাব অটোর বোর্ড সভা ২৯ অক্টোবর icon ওয়াটা কেমিক্যালের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon মেঘনা সিমেন্টের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon রহিমা ফুডের বোর্ড সভা ২৭ অক্টোবর icon অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon সাইবার হামলায় জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট icon বসুন্ধরা পেপারের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমসের বোর্ড সভা ২৭ অক্টোবর icon সামিট পাওয়ারের বোর্ড সভা ২৭ অক্টোবর icon সাইনপুকুর সিরামিকসের বোর্ড সভা ২৯ অক্টোবর icon ইউনিক হোটেলের বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon ইন্দো-বাংলা ফার্মার বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর icon বেক্সিমকো ফার্মার বোর্ড সভা ২৮ অক্টোবর
down of head

অন্য দেশে আশ্রয় চায় নিহত মুহিবুল্লাহর পরিবার

হুমকি-ধমকির কারণে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা নিহত মুহিবুল্লাহর পরিবার তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কাছে সম্প্রতি আবেদন করেছে বলে জানা গেছে। তবে আরআরআরসি বলছে, তারা এ ধরনের কোনো আবেদন পায়নি। বর্তমানে মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যদের আগের লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ঠিকানা থেকে সরিয়ে উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় উখিয়া লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকের আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ঘটনার পর মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আরসার (আরাকান স্যালভেশন আর্ম) নেতা আবদুর রহমানের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা পরপর পাঁচটি গুলি করে মুহিবুল্লাহকে হত্যা করে।

তবে পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। এরপর হামলাকারীদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে গত ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিবিরের বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর দুই দফায় পাঁচ রোহিঙ্গাকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উখিয়া থানার পুলিশ। তাদের মধ্যে মো. ইলিয়াছ নামে একজন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে ক্যাম্পে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চললেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৯ অক্টোবর দুপুরে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন মুহিবুল্লাহর বসতিতে (ক্যাম্প) গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন। এ সময় পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেন।

রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য সন্ত্রাসীদের ধরতে সেখানে (ক্যাম্পে) রাত-দিন অভিযান চালানো হচ্ছে। তৃতীয় দেশে আশ্রয় চায় মুহিবুল্লাহর পরিবার

উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে থাকাকে নিরাপদ মনে করছে না মুহিবুল্লাহর পরিবার। প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। তৃতীয় কোনো দেশে (বাংলাদেশ-মিয়ানমার ছাড়া) আশ্রয় চেয়ে ১০ অক্টোবর আরআরআরসির কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্যরা। আজ রোববার আবেদন করার সত্যতা নিশ্চিত করেন মুহিবুল্লাহর ভাগনে (বোনের ছেলে) মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ।

রশিদুল্লাহ বলেন, তার মামার হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মুঠোফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। হুমকিদাতারা বলছে, হত্যার ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদেরও একই ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হবে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যসহ ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মুহিবুল্লাহর ভাগনে রশিদুল্লাহ আরও বলেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ (এপিবিএন) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন। এরপরই পরিবারের আট সদস্যসহ নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা ছয়টি পরিবারের সদস্যদের লম্বাশিয়া ক্যাম্প থেকে গত শনিবার অন্যত্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন তারা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে আছেন।

এ বিষয়ে আরআরআরসি শাহ মো. রেজওয়ান হায়াত বলেন, নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো লিখিত আবেদন পাননি তিনি। যদি তাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো আবেদন পাওয়া যায়, বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়।

সম্পর্কিত খবর