ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ১৬ প্রতিষ্ঠান
ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে স্পেনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ‘বার্সেলোনা টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলায় বাংলাদেশের ১৬টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বার্সেলোনার ফিরা দে বার্সেলোনা মোন্টজুইক প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা ও মাদ্রিদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় ইপিবির তত্ত্বাবধানে ১৪টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া ইপিবির একটি স্টলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বিভিন্ন প্রকাশনা, জার্নাল ও নথিপত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান। এ সময় ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন, স্পেনে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রুহুল কুদ্দুস, বিকেএমইএর পরিচালক মো. আব্দুল হান্নানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য স্পেন। জার্মানিকে ছাড়িয়ে স্পেন এখন বাংলাদেশের পণ্যের বৃহত্তম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মেলায় ওভেন ও নিট কাপড়, তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, সুতা ও ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিজ প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইউরোপের ফ্যাশন ব্র্যান্ড, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা এবং ডিজাইনারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
এবারের মেলায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ট্রেন্ড ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে ট্রেন্ড পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পেক্লার্স প্যারিস। এতে ফ্যাশনশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নতুন প্রবণতা বিশ্লেষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মেলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল লক্ষ্য ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার, নতুন ক্রয়াদেশ সংগ্রহ এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



