মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দরপতন অব্যাহত

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য। প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্ভিজ্জ তেল ও বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় পাম অয়েলের মূল্যে এ ধস নামে। পাম অয়েলের বাজার আদর্শ এফসিপিওসি৩ অনুসারে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিক্রয়ের জন্য উদ্ভিজ্জ তেলটির দাম দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে আসে। বুসরা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ অনুসারে বৃহস্পতিবার প্রতি টন মালয় পাম অয়েলের দাম দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯২৭ রিঙ্গিত (১ হাজার ১৮৭ ডলার ৮০ সেন্ট)। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বুধবার পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য আগের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পায়। বৃহস্পতিবার তা আরো দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে আসে। বৃহস্পতিবার সেশনের শুরুতে পণ্যটির ভবিষ্যৎ চুক্তি মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে তা পুনরুদ্ধার হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরে ৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহে উদ্ভিজ্জ তেলটির দাম রেকর্ড ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, অপরিশোধিত পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য আন্তর্জাতিক বাজার অনুসরণে প্রফিট টেকিংয়ের মধ্যে অবস্থান করছে। তিনি জানান, পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ মূল্য মূলত ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অনুসারে ওঠানামা করে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে পাম অয়েলের দামও কমতে শুরু করে।

ডালিয়ান এক্সচেঞ্জ অনুসারে সবচেয়ে বেশি বিক্রীত সয়া অয়েলের ভবিষ্যৎ বাজার মূল্য ডিবিওয়াইসিভি১ চুক্তি অনুসারে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ডালিয়ানে পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ বাজারমূল্য ডিসিপিসিভি১ চুক্তি অনুসারে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমেছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডের ভোজ্যতেল বিক্রয়ের বিওসিভি১ চুক্তি মূল্য কমেছে দশমিক ৩৯ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের তেল খনিগুলোতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সরকারি তথ্যে প্রকাশ পায়। এর পরই দুই সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

পাম অয়েলের বাজারমূল্য ভোজ্যতেলটির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তেলের মূল্য ওঠানামার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। মূলত উদ্ভিজ্জ তেলের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের কারণে মূল্যের এ ওঠানামা প্রত্যক্ষ করা যায়। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সস্তা দাম বায়োফুয়েল ফিডস্টক হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে পাম অয়েলের চাহিদা অনেকাংশেই হ্রাস করে।

পাম অয়েলের বর্তমান বাজার অনুসারে ভোজ্যতেলটির বাজারমূল্য হ্রাস পেয়ে প্রতি টনে ৪ হাজার ৮২২ রিঙ্গিত পর্যন্ত দাঁড়াতে পারে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পণ্যটির মূল্য সর্বোচ্চ প্রতি টন ৫ হাজার ২২০ রিঙ্গিত পর্যন্ত পৌঁছেছিল।