চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে ভারতের স্বর্ণ আমদানি

ভারতে ক্রমাগত বাড়ছে স্বর্ণের মজুদ। ফলে বিশ্ববাজারে ধাতুপণ্যটির দাম এখনো চড়া থাকলেও আমদানি মূল্যে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এতে বাড়ছে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণও। চলতি বছর এপ্রিল-নভেম্বরে দেশটিতে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। খবর মানি কন্ট্রোল ডটকম।

স্বর্ণ আমদানিতে বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ দেশ ভারত। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ভারতে স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ১৭০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছর প্রথম প্রান্তিকে পূর্ণ ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে আংশিক লকডাউন জারি হয়। এতে অর্থনীতিতে ধস নামে। তাই গত বছর একই সময়ের সঙ্গে বর্তমান চিত্রের তুলনা করা অমূলক।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতে ধাতুটির চাহিদা ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ডব্লিউজিসির তথ্যমতে, জনসাধারণ ছাড়াও ক্রেতার তালিকায় রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমান অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া আনুমানিক ৪১ টন স্বর্ণ ক্রয় করে। এ নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মোট স্বর্ণের পরিমাণ ৭৪৫ টন।

তবে মহামারী-পূর্ব সময়ের সঙ্গে তুলনা করলেও এ বছর স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ বাড়তি ছিল। চলতি বছর ধাতুটির আমদানি মূল্য ছিল ৩ হাজার ৩৩২ কোটি ডলার, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাণিজ্য ঘাটতিও ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ বেশি। তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর এ বছরই আমদানির পরিমাণ সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য বলছে, স্বর্ণ আমদানির মূল্যমানও বেড়েছে এ বছর। চলতি বছর এপ্রিল-নভেম্বরে আমদানি করা স্বর্ণের পরিমাণ মোট আমদানির ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আগের বছরগুলোয় এ হার ছিল ৬ দশমিক ৩ থেকে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ব্যতিক্রম চিত্র ছিল গত বছর। ২০২০ সালে স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বা ১ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চাহিদা কমার কারণে দেশটিতে আমদানিও কম ছিল।

এদিকে এ বছর আমদানির মূল্যমানের সঙ্গে বেড়েছে মূল্যবান ধাতুটির আমদানির পরিমাণও। চলতি বছর ভারতে স্বর্ণ আমদানির পরিমাণ ২০১৩-১৪ সালের কাছাকাছি ছিল। তথ্যানুযায়ী, এপ্রিল-সেপ্টেম্বরে দেশটি ৪৪৫ টন স্বর্ণ আমদানি করে। এর বেশির ভাগই ছিল অপরিশোধিত অবস্থায়। আমদানির কিছু অংশ ছিল স্বল্প পরিশোধিত অবস্থায়। এর মাঝে দুই-তৃতীয়াংশ বা ২৯২ টনের বেশি আমদানি হয় দ্বিতীয় প্রান্তিকে, অর্থাৎ ভারতে উৎসব মৌসুমের আগে। আগস্টেই আমদানির পরিমাণ ছিল ১২০ টন, যা ২০২০-২১-এর প্রথম ভাগের সমান। সেপ্টেম্বরে আমদানি করা হয় ৯৬ টন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়া সত্ত্বেও ভারতে ধাতুটির চাহিদা বেড়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতি পঙ্গু হওয়ার দরুন এবং বিনিয়োগের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমায় বিশ্ববাজারে দাম বাড়ে স্বর্ণের। এদিকে স্টক মার্কেট পুনরুদ্ধার হলেও মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধিতে স্বর্ণের দাম এখনো বাড়তির পথে। তবে গত বছর মহামারীকালীন স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। ২০২০ সালে আগস্টে এক আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ২ হাজার ৫৭ ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে সমপরিমাণ স্বর্ণের বাণিজ্যিক মূল্য ১ হাজার ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

সম্পর্কিত খবর