আফ্রিকার চিনি শিল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে তানজানিয়া
বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং বিস্তর আবাদি জমির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আফ্রিকার চিনি শিল্পের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তানজানিয়ার। দেশটির ব্যবসায়ী কৃষি বিশেষজ্ঞরা এ মত দিয়েছেন। খবর দ্য সিটিজেন।
বিশ্লেষকদের দাবি, দেশটির বেশির ভাগ অঞ্চলেই আখ আবাদ করা সম্ভব, যা চিনি উৎপাদনে সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়। এজন্য শুধু প্রয়োজন কৌশলগত পদক্ষেপ, বড় আকারের বিনিয়োগ এবং অংশীজন ও আখ উৎপাদকদের সম্পৃক্ততা।
বিজনেসউইককে দেয়া সাক্ষাত্কারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তানজানিয়া এখনো চিনি আমদানিনির্ভর দেশ। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে দেশটিকে বিপুল পরিমাণ চিনি আমদানি করতে হয়। তবে চিনি উৎপাদন কোম্পানিগুলোর যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার মাধ্যমে তারা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে পারে। এর পাশাপাশি আফ্রিকার অন্যান্য দেশেও সরবরাহ করতে পারে।
বিদায়ী বছরের শুরুর দিকে দেশটির কৃষিমন্ত্রী এডলফ মেকেন্ডা বলেন, তানজানিয়ায় অনেক আখচাষী রয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তাদের সবার উৎপাদিত আখ চিনি উৎপাদনে ব্যবহার হয় না। এ কারণেই সরবরাহে ঘাটতি থেকে যায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ আখ উৎপাদন করলেও চিনি আমদানি করতে হয়। বর্তমানে তানজানিয়ায় চিনির যে সংকট, তা আখের জন্য নয়, বরং বিনিয়োগস্বল্পতার কারণে।
২০১৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, তানজানিয়ায় প্রতি বছর ৪ লাখ ৭০ হাজার টন চিনির চাহিদা রয়েছে। এক্ষেত্রে দেশটির পাঁচটি চিনিকলের বছরে ৩ লাখ ৭৮ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে দেশটির সরকার। বর্তমানে দেশটি বছরে ৪ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি উৎপাদন করছে। তবে ২০২৪-২৫ মৌসুমে এটি সাত লাখ টনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের মধ্যে চিনি শিল্পে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তানজানিয়া। নতুন নতুন চিনিকল স্থাপনের কথা ভাবছেন দেশটির নীতিনির্ধারকরা।


