আগামী বছর চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে জ্বালানি সরবরাহ
আর কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হতে যাচ্ছে ২০২১ সাল। আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারের জন্য ঘটনাবহুল এ বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজার। গত বছরের মহামারীজনিত মন্দা কাটিয়ে চলতি বছর বাড়তে শুরু করে এসব জ্বালানি পণ্যের চাহিদা। কিন্তু সরবরাহ ছিল বরাবরের মতোই নিম্নমুখী। ফলে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম। মূল্যবৃদ্ধির এ আগুনে ঘি ঢেলেছে ইউরোপ ও এশিয়া, বিশেষ করে চীন ও ভারতের জ্বালানি সংকট। তবে চলতি বছরের শেষ দিকে এসে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে কিছুটা স্থিতি ফিরেছে। আগামী বছর বাজার পুরোপুরিভাবে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২২ এনার্জি আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়বে। এমনকি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের চাহিদার গতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে সরবরাহ।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের বিশ্লেষকরা জানান, ২০২১ সাল ছিল জ্বালানি তেল ও গ্যাস চাহিদা পুনরুদ্ধারের বছর। কিন্তু ২০২২ সাল হবে জ্বালানি পণ্যগুলোর সরবরাহ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার বছর।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছর জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ শুধু চাহিদা পূরণেই সক্ষম হবে না, বরং চাহিদাকে ছাড়িয়েও যাবে। পাশাপাশি সহায়তা করবে বর্তমানে তলানিতে নেমে যাওয়া মজুদকে ফুলেফেঁপে উঠতে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে বাড়তে থাকা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) রফতানি, যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল (পাথরের খাঁজ থেকে আহরিত তেল) উত্তোলন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের বাইরের দেশগুলোর সরবরাহ খাতে ঊর্ধ্বমুখী বিনিয়োগ।
এদিকে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণপ্রবাহ জ্বালানি তেলের চাহিদায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা চলছিল, তাকে আবারো উসকে দিচ্ছে ওমিক্রন। তবে ওপেকসহ বিভিন্ন সংস্থা জ্বালানি পণ্যের বাজারে ওমিক্রনকে উদ্বেগের বড় কারণ বলে মনে করছে না।
গ্লোবাল প্ল্যাটসের বিশ্লেষকরা এক নোটে জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের এ আউটলুকের পুরোটাই নির্ভর করছে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক কেমন যাবে তার ওপর। এছাড়া শীত মৌসুমে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোর আবহাওয়ার ওপরও বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করছে।
অন্যদিকে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজার দুটি প্রধান ভূরাজনৈতিক ইস্যুর মুখোমুখি হবে। এর মধ্যে একটি ইরানের পরমাণু চুক্তি, অন্যটি বিতর্কিত রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছরের শুরুতেই সমাধান না মিললে ইস্যুগুলো বছরজুড়েই জ্বালানি পণ্যের বাজারকে ভোগাবে।
প্রসঙ্গত, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত আছে। নভেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বৈশ্বিক সরবরাহও। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওপেক।
জোটটির মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নভেম্বরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন গড়ে ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। আগের মাসের তুলনায় উত্তোলন বেড়েছে দৈনিক ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে। সৌদি আরব, ইরাক ও নাইজেরিয়া উত্তোলন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। তবে অ্যাঙ্গোলা, লিবিয়া ও কঙ্গোয় উত্তোলন কমেছে। বৈশ্বিক উত্তোলনে ওপেকের হিস্যা অক্টোবরের মতোই ২৮ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল।


