প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙানোর অভিযোগ
দখল হচ্ছে ফারইস্ট ও প্রাইম লাইফের শতকোটি টাকার জমি!
রাজধানীতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট স্থগিতাদেশ বহাল থাকার পরও এই জমি দখলের পেছনে এক প্রতিমন্ত্রীর নাম এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো। একইসঙ্গে দখল ও প্রকাশ্য হুমকি সত্ত্বেও স্থানীয় শাহ আলী থানা পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী থানাধীন গাবতলী/পাইকপাড়া (চটবাড়ী) মৌজায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের যৌথ মালিকানাধীনমোট ৬২৮.৮৯ শতাংশ জমি রয়েছে। উক্ত জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনগত বিরোধ চলছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ (যার মিস কেস নং-৪৬৮৭০/২০২৪) গত ২৯ জুলাই এক আদেশে নিম্ন আদালতের বিভিন্ন আদেশের কার্যকারিতা রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেন।
আইনগত স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮:৩০ টার দিকে মো. আনিসুল ইসলাম (৪৩)-এর নেতৃত্বে আনুমানিক ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জোর করে এই বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ট্রাকে করে রড, বালু, সিমেন্ট ও নির্মাণসামগ্রী এনে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে সেখানে নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ডদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
আদালতের আদেশ অবমাননা ও দখলের হুমকির প্রেক্ষিতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকে আশরাফুল আরেফিন গত ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৫৬২) দায়ের করেন। একই বিষয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পক্ষ থেকেও থানায় পৃথক জিডি (জিডি নং- ১২৮০) ও লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়।
বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিলকৃত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জমি দখলকারী চক্রটি প্রকাশ্যে এক প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও এবং একাধিকবার থানায় জিডি করা সত্ত্বেও শাহ আলী থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে কোনো দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে, বিমা খাতের অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, হাজার হাজার সাধারণ গ্রাহকের আমানতে গড়া এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জবরদখল হলে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হবে এবং সার্বিক আর্থিক খাত হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আনিসুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে সময় লাগবে।” হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অভিযোগ ও জিডির বিষয়ে জানতে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’।
আদালতের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ও প্রাইম ইসলামী লাইফের শতকোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবক্ষয় ও বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



